আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: দিনাজপুরের খানসামায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিষ্পাপ শিশু আবিদ হাসান প্রাণ হারানোর মাত্র দুই দিনের মাথায় অভিযুক্ত মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ বা এসআরবি-১৩। জননিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-১৩ যে অনন্য দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করল তাদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে পার্বতীপুর উপজেলার এক দুর্গম এলাকা থেকে ঘাতক ট্রাক্টরচালককে গ্রেফতার করে তারা সাধারণ মানুষের আস্থা কুড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১১ অক্টোবর দুপুর দুইটার কিছু পরে। খানসামা এলাকায় প্রতিবেশীর একটি দোকানের সামনে খেলার ছলে সময় পার করছিল অবোধ শিশু আবিদ হাসান। সে সময় বিকাশ রায় নামের এক চালক অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ট্রাক্টর-ট্রলি চালিয়ে এসে মুহূর্তের মধ্যেই শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় আবিদকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা, কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই করুণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়োগান্তক ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার পরপরই নিহত শিশুর চাচার আবেদনের প্রেক্ষিতে খানসামা থানায় একটি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ৭।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিকাশ রায় আত্মগোপনে চলে গেলেও এসআরবি-১৩ এর চৌকস টিম বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি। আভিযানিক দলটি আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর ক্যাম্পের সিপিসি-১-এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের বাঘাচড়া গ্রামে অভিযান চালায়। সেখানে ধীরেন রায়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বিকাশ রায় খানসামা উপজেলার পশ্চিম হাসিমপুর গ্রামের সুশীল রায়ের ২৫ বছর বয়সী ছেলে। অপরাধীকে দ্রুততম সময়ে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর এই সফল উদ্যোগ নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী। গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839