• শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গঙ্গাচড়ায় মন্দিরের সামনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান গঙ্গাচড়ায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা রোধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতার আহ্বান পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সবুরের পঞ্চগড়ে আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর ৯ সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুর এসএসসি জয় ডোমারে পুকুর ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে আল-আজাদ মডেল মাদ্রাসা, কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা পঞ্চগড়ে মাধুপাড়া বিওপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির কঠোর নজরদারির বার্তা কলম যেন থেমে না যায়, হরিশদা ৪৭টি ওয়ারেন্ট তামিল করে দিনাজপুরের শ্রেষ্ঠ অফিসার এসআই দীপু, বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানেও সাফল্য তরুণদের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে বীরগঞ্জে যুব দিবসে শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ বীরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদক সেবন ও ব্যবসায় চারজনের কারাদণ্ড ও জেলহাজতে প্রেরণ মধু নামের মানুষ, মিছিলের রক্ত যার শরীরে বহমান

ডোমারে পুকুর ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে আল-আজাদ মডেল মাদ্রাসা, কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

আনিছুর রহমান মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার। ডোমার (নীলফামারী)
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী চন্দিনা পাড়ায় অবস্থিত আল-আজাদ মডেল মাদ্রাসাটি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এলাকার একটি প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও এর পারিপার্শ্বিক অবকাঠামোগত বেহাল দশা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে থমকে দিচ্ছে। একদিকে মাদ্রাসার ঠিক কোল ঘেঁষে থাকা একটি পুকুর বর্ষার মৌসুমে পাড় ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করায় পুরো ভবনটি পুকুরের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রশস্ত রাস্তার অভাবে যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট।
ডোমার পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দিনা পাড়ায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এই আল-আজাদ মডেল মাদ্রাসাটি। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করে এবং বর্তমানে সেখানে জেনারেল বিভাগ অ্যাকাডেমী শাখায় প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এবং বালিকা মাদ্রাসা শাখায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৬ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের নিয়মিত যাতায়াত থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশপথের অবস্থা অত্যন্ত করুণ।
মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য ভালো কোনো প্রশস্ত রাস্তা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো পথ কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। সেই কাদা পানি পেরিয়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাসে পৌঁছাতে হয়। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রতিদিন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে মাদ্রাসায় আসা- যাওয়া করা অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতায়াতের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা কাদাপানিতে পড়ে পোশাক নষ্ট করাসহ নানাভাবে আহত হচ্ছে।
একদিকে যাতায়াতের সীমাহীন কষ্ট, অন্যদিকে মাদ্রাসার সীমানা ঘেঁষে থাকা পুকুরটির ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। বর্ষার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পুকুরের পাড় ভাঙতে শুরু করায় পুরো মাদ্রাসা ভবনটিই এখন হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুকুর পাড়ে রক্ষাবাঁধ বা প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আকুল আবেদন জানিয়েছেন যেন ডোমার পৌর প্রশাসন অনতিবিলম্বে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা চান দ্রুততম সময়ে যাতায়াতের জন্য একটি উপযুক্ত রাস্তা নির্মাণ এবং পুকুরের ভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পৌর প্রশাসন সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করলে এই অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষার মান বজায় থাকার পাশাপাশি দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


More News Of This Category