সীমান্তে কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধি, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি সর্বদা সজাগ থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মাধুপাড়া বিওপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা জানান বিজিবির উত্তর পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাসের।
অনুষ্ঠানে বিজিবির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধীনস্থ টোকাপাড়া ও ঘাগড়া বিওপির মধ্যবর্তী ২২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তায় এই নতুন বিওপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই নতুন ক্যাম্প স্থাপনের ফলে সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং চোরাচালান রোধ করা অনেক সহজ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাধুপাড়া বিওপি চালু হওয়ার মাধ্যমে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে এই বিওপিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যরা পূর্ণ নিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় সীমান্ত সুরক্ষা সুসংহত করতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন রিজিয়ন কমান্ডার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিবির উত্তর পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাসের আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে মাধুপাড়া বিওপির সূচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সুসজ্জিত প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বোতাম চেপে বিওপির নামফলক উন্মোচন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং স্মারক হিসেবে তিনি বিওপি চত্বরে একটি আম গাছের চারা রোপণ করেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সীমান্ত রক্ষা, দেশ ও জাতির সার্বিক মঙ্গল এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ। এছাড়া বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা, জোয়ান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত থেকে নতুন এই সীমান্ত ফাঁড়ির যাত্রা প্রত্যক্ষ করেন।