পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় একটি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, পেশাদারিত্ব ও অনন্য উদ্ভাবনী ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাকডোকরা খাল খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে বেঁচে যাওয়া প্রায় সাড়ে নয় লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী স্ব উদ্যোগ ও নিষ্ঠার সাথে পুরো কাজ পরিচালনা করে এই অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাকডোকরা খালের এই গুরুত্বপূর্ণ খনন কর্মসূচির জন্য মোট বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজের সার্বিক অগ্রগতি, ব্যবহৃত সরঞ্জামের মান এবং ব্যয়ের প্রতিটি খাত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়। স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজটি সম্পন্ন করার পর দেখা যায় প্রকল্পের ৯ লাখ ৩৯ হাজার ১৯১ টাকা অব্যয়িত রয়ে গেছে। কোনো প্রকার অপচয় না করে নীতি ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়ে সেই পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
শুধু সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও ফেরত দেওয়াই নয়, এর পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা থেকে প্রকল্পের কাজে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেন এই কর্মকর্তা। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আওতায় সাধারণ কাজের বাইরে গিয়ে তিনি বাকডোকরা খালের দুই ধাপে সবুজ ঘাস লাগানোর একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। খালের দুই পাড়ের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার এই প্রয়াস সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে এই উদ্ভাবনী চিন্তা দেশের সর্বোচ্চ মহলেও বিশেষভাবে মূল্যায়িত হয়।
সম্প্রতি আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশ থেকে আসা ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মতবিনিময় করেন। উক্ত সভায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবীও উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী আটোয়ারী উপজেলার খালের দুই ধারে সবুজ ঘাস লাগানোর নান্দনিক ও কার্যকর বিষয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন দেশের পরবর্তী প্রতিটি খাল খনন প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব এই মডেলটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নিজের অনুভূতি ও প্রকল্পের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কাজের অতিরিক্ত অংশ হিসেবে খালের দুই ধাপে সবুজ ঘাস লাগানোর চিন্তাটি পুরোপুরি পরিবেশ রক্ষা ও পাড়ের স্থায়িত্ব বাড়ানোর তাগিদ থেকেই করা হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ছোট প্রচেষ্টাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তী কাজের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে তা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের স্বীকৃতি কাজের গতি ও দায়িত্ববোধকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সরকারি কাজের সার্বিক স্বচ্ছতা, বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবায়নের এমন ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি সিভিল প্রশাসনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। কোনো অতিরিক্ত অলংকার বা অপচয় ছাড়া জনগণের টাকা সঠিক খাতে ব্যবহার করে তা আবার রাষ্ট্রীয় কোষে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা এখন পঞ্চগড় জেলা জুড়ে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।