• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যানজট নিরসন ও সড়ক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কেরানীগঞ্জের ট্রাফিক পয়েন্ট পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কক্সবাজারের হ্নীলায় বৈচিত্র্য ও শান্তির বার্তা নিয়ে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শন করলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুল ইসলাম ডিমলায় মাদক আসামির মুক্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা, আটক ৩৪ পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা খোকন ভূঁইয়ার নাসিরনগরে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন: ৫০ হাজার টাকায় সালিশে ধামাচাপা, পরিবার পেল ৬ হাজার গঙ্গাচড়ায় ৮০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩: ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর সাজা ডোমারে শিক্ষানুরাগী আলহাজ আজিজার রহমানের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সপ্তম প্রজন্মের মিলনমেলা টেকনাফে দেড় লাখ ইয়াবাসহ তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জে অপরাধ দমনে ২৪ ঘণ্টা মাঠে সক্রিয় জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ

কক্সবাজারের হ্নীলায় বৈচিত্র্য ও শান্তির বার্তা নিয়ে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) কক্সবাজার
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গান, হরেক রকমের খেলাধুলা, নিজেদের সুখ-দুঃখের গল্প বিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামাজিক সংহতি জোরদারের এক মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। রোববারে বিকেলের এই আয়োজনটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল দুই সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক মেলবন্ধন।

সুজলা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া কামালের সভাপতিত্বে এবং জাহেদুল ইসলামের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় হ্নীলা বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেন্টারের নিচতলায় অনুষ্ঠিত হয় এই সাংস্কৃতিক মেলা। ‘ইউথ-লেড পিসবিল্ডিং অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড মিয়ানমার’ প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করে সুজলা মহিলা সমিতি। পুরো আয়োজনে সহযোগিতা করে শেড ও অ্যাকশনএইড এবং এতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান নুরুল আমিন। এরপর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষজন নিজেদের জীবন সংগ্রাম ও ভাবনার গল্প তুলে ধরেন স্টোরি শেয়ারিং পর্বে। এতে হোস্ট ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে তাদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন ইরফাত এবং বিবি জাহান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপের রাখাইন সম্প্রদায়ের সভাপতি মন্টিং অং। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। এছাড়া শেড-এর পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন আসিফ তাইজুল। বক্তারা প্রত্যেকেই পারস্পরিক সহনশীলতা ও একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার ওপর জোর দেন।

 

সাংস্কৃতিক মেলার মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন আনন্দদায়ক খেলাধুলা। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ঐতিহ্যবাহী চেয়ার খেলা এবং পলি পাশিং। এই খেলাগুলোতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দারুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী তিন নারী এবং তিন পুরুষের হাতে মেলা প্রাঙ্গণেই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে এক আনন্দের আমেজ তৈরি করে।

 

খেলাধুলার পর কক্সবাজার থেকে আগত শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা মেলা প্রাঙ্গণকে আরও মুখরিত করে তোলে। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিজস্ব ও পরিচিত বিভিন্ন গান পরিবেশনের মাধ্যমে পুরো এলাকায় এক চমৎকার উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গান ও সুরের মাধ্যমে দুই সংস্কৃতির দূরত্ব যেন এক মুহূর্তে মুছে যায়।

 

পাশাপাশি মেলায় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাবারের বেশ কয়েকটি স্টল সাজানো হয়েছিল। এসব স্টলে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, পাকান পিঠা, নারকেলের পিঠা, নকশি পিঠাসহ স্থানীয় হরেক রকমের মুখরোচক খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। উপস্থিত সবাই গভীর আগ্রহের সঙ্গে একে অপরের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেন এবং সংস্কৃতির আদান-প্রদান উপভোগ করেন।

 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সঙ্গে একে অপরকে নিবিড়ভাবে পরিচিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি হবে এবং সামাজিক সংহতি আরও বেশি সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ