• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নওগাঁর মহাদেবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত ও যাত্রী আহত স্বেচ্ছায় থানায় গিয়ে যুবক বললেন, ‘মাদক আমার জীবন ধ্বংস করেছে, আমাকে জেল দিন’ ৬ কোটি টাকার খাস জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার বাংলাদেশি যুবক নিহত রংপুরে অনলাইন জুয়া ও ভিসা প্রতারণার অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার বীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত পঞ্চগড়ে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত, টেকসই নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা শার্শার গোগা সীমান্ত থেকে ৪১৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বিজিবি রংপুরের মাহিগঞ্জে ২১ কেজি ওজনের কালো পাথরের কালীমূর্তি উদ্ধার, গ্রেফতার ১

নাসিরনগরে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন: ৫০ হাজার টাকায় সালিশে ধামাচাপা, পরিবার পেল ৬ হাজার

আব্দুল হান্নান নাসিরনগর ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নে এক ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে বাসাবাড়িতে কাজ দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন ও অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ওই কিশোরীকে তার পরিবার দূর সম্পর্কের ফুফা মৃত জামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। সেখানকার বাসিন্দা ও কিশোরীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, ফুফাতো বোন তাসলিমা বেগম, তার স্বামী রাজা মিয়া, বোন খাদিজা বেগম এবং ভাই লালন মিয়া তাকে গৃহকাজের বদলে জোরপূর্বক বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত। এই অনৈতিক কাজে রাজি না হলে কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে রুমের ভেতর আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। তার শরীরে গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হতো।

 

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে ওই কিশোরী সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় পান-সুপারি কিনতে বাড়ি থেকে বাজারের দিকে গেলে অভিযুক্তরা তাকে আবার জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে মুখ বেঁধে তার ওপর পুনরায় নির্যাতন চালানো হয়। এরপর গত ২ অক্টোবর শুক্রবার তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে তার ডান পায়ে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে কিশোরীর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

তবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও মামলা করতে রাজি নয় কিশোরীর পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি গোপনে আপস-মীমাংসা করে ধামাচাপা দিয়েছে। এর মধ্যে নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার পেয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা এবং বাকি টাকা মাতব্বর বা সর্দারদের পকেটে গেছে। এ বিষয়ে কিশোরীর বাবা-মা সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার এক চাচা জানান, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ঘটনাটি ঘটায় তারা নিজেরা বসেই বিষয়টি শেষ করে দিয়েছেন।

 

ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিকুল ইসলাম এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত জঘন্য ও ন্যক্কারজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, কয়েকজন মাতব্বর মিলে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যেখানে ভুক্তভোগী পরিবার মাত্র ৬ হাজার টাকা পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এমন একটি গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না এবং ঘটনার পর থেকে সালিশকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। গত ৩ অক্টোবর শনিবার বিকেলে নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে কিশোরীর মা স্বীকার করেন যে তারা ৬ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেবেন না।

 

এই ঘটনা প্রসঙ্গে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায় যে কোনো মামলা করতে ইচ্ছুক নয়। লিখিত অভিযোগ না পেলে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ