আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানের পর তাঁদের মধ্যে দুই মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর একজনের কাছ থেকে ৮০টি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
রোববার ৪ অক্টোবর গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিশামত শেরপুর মিয়াপাড়া ও বেতগাড়ী বাজার এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক মো. তাহামুদার রহমানের নেতৃত্বে একটি দল প্রথমে কিশামত শেরপুর মিয়াপাড়ার কথিত মাদক ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি।
পরে অভিযানকারী দল বেতগাড়ী বাজারে মো. মিলনের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দোকানের ভেতরে ৩৫ বছর বয়সী মিলন, ৩৩ বছর বয়সী মো. আইনুল ও ৩২ বছর বয়সী আকরাম অবস্থান করছিলেন। তাঁদের আটক করে দোকানে তল্লাশি চালানো হলে মিলনের কাছ থেকে ৮০টি ইয়াবা, আইনুলের কাছ থেকে একটি এবং আকরামের কাছ থেকে একটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পরবর্তীকালে বিষয়টি গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হামিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনুল ও আকরামকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯(১)(ক) ধারায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সেবনের অপরাধে একই আইনের ৩৬(১) ধারার সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধান বা তফসিল অনুযায়ী তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ৮০টি ইয়াবাসহ আটক মো. মিলনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।
অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ হামিদুল ইসলাম তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বুঝিয়ে শান্ত করেন।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সামছুল হক মুকুল মাস্টার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হুমকির মুখে পড়েছেন। তিনি মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবন পুরোপুরি বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযানের দাবি জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি কাজ সম্পন্ন শেষে তাঁদের গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839