• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বুড়িচং প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে উপজেলা ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় বীরগঞ্জে পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল বাহারকে বিপুল সংবর্ধনা দিলেন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মাদারগঞ্জে মাখনের পর আসিফ বিল্লাহর ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, সাংগঠনিক ব্যবস্থার দাবি শার্শায় পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম আটক শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম আটক ডোমার গোমনাতীতে শত্রুতার জেরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ ডোমারে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ভার্চুয়ালি শুভ উদ্বোধন শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকর্মী আটক ডিমলায় মাদক সেবনের অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার ডিমলায় প্রেসক্রিপশনকে পুঁজি করে স্টিকার বাণিজ্যের মাধ্যমে রোগীর পকেট কাটার অনৈতিক বাণিজ্য ও ১,০৫০ টাকার মাল্টিভিটামিনের অসংগতি

ডিমলায় প্রেসক্রিপশনকে পুঁজি করে স্টিকার বাণিজ্যের মাধ্যমে রোগীর পকেট কাটার অনৈতিক বাণিজ্য ও ১,০৫০ টাকার মাল্টিভিটামিনের অসংগতি

রাহেনা বারী আয়না, স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী (ডিমলা)
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চিকিৎসার নামে সাধারণ ও অসহায় রোগীদের পকেট কাটার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে একের পর এক অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট ওষুধ যুক্ত করা হচ্ছে এবং সেই ওষুধের প্যাকেটের ওপর আলাদা স্টিকার বসিয়ে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য আদায় করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নামসর্বস্ব বা নির্দিষ্ট কিছু বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এসব মাল্টিভিটামিন ও খাদ্য পরিপূরক ওষুধ রোগীদের কাছে আসল দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকান, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে এমন একটি অনৈতিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানের সময় মাল্টিক্যাল এবং জয়েন্টব্লেস নামের দুটি সাপ্লিমেন্ট মাল্টিভিটামিন ওষুধ পাওয়া যায়। সরবরাহ করা ছবিতে এসব পণ্যের প্যাকেট, পুষ্টি উপাদানের তালিকা, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত নানা তথ্যের পাশাপাশি হাত দিয়ে লাগানো মূল্যসংক্রান্ত স্টিকার স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সেখানে একটি পণ্যের গায়ে স্টিকার লাগিয়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি ১,০৫০ টাকা লিখে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সচেতন সূত্রের দাবি, অপেক্ষাকৃত অনেক কম দামে বাজার থেকে সংগ্রহ করা এসব সাপ্লিমেন্ট ওষুধের প্যাকেটের ওপর নতুন করে স্টিকার লাগিয়ে কয়েকগুণ বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে কেনা পণ্যগুলোর গায়ে ১,০৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বসিয়ে তা সরাসরি রোগীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই ঘটনার পেছনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, এসব অপ্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট ওষুধ রোগীদের চিকিৎসাপত্রে লিখতে কিছু চিকিৎসককে মোটা অঙ্কের কমিশন বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর শারীরিক প্রয়োজন এবং সুস্থতার চেয়ে নিজস্ব আর্থিক লাভকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসকরা অতিরিক্ত এসব ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো চিকিৎসক, বেসরকারি ক্লিনিক মালিক বা ওষুধ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার জানান, সব রোগীর শরীরের জন্য মাল্টিভিটামিন বা খাদ্য পরিপূরক ওষুধ মোটেও অপরিহার্য নয়। একজন রোগীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পুষ্টিগত ঘাটতি এবং চিকিৎসকের নিজস্ব ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই কেবল এসব ওষুধ দেওয়া যুক্তিযুক্ত। কিন্তু কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেবল ব্যবসায়িক স্বার্থে যদি ওষুধ লেখা হয়, তবে তা একজন রোগীর ওপর অন্যায় আর্থিক চাপ তৈরি করে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৫০ টাকা মূল্যের যৌক্তিকতা নিয়ে। সমমানের অন্যান্য ভালো মানের মাল্টিভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট ওষুধ বাজারে অনেক কম দামে পাওয়া গেলেও এই বিশেষ ওষুধগুলোর দাম কেন এত বেশি ধরা হচ্ছে, তার সঠিক উত্তর মেলা প্রয়োজন। পণ্যের আসল উৎপাদন খরচ, বিদেশ থেকে আনার খরচ, পরিবহন, বিপণন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন এবং নির্ধারিত খুচরা মূল্যসহ পুরো ব্যবস্থাটি সঠিকভাবে তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হতে পারে।
ওষুধের প্যাকেটে দেখা পাওয়া তথ্যগুলোও গভীরভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। কোনো পণ্যের প্যাকেটের গায়ে বিদেশি কোনো দেশের নাম, আমদানিকারক, নামসর্বস্ব বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা যেকোনো সার্টিফিকেশনের তথ্য লেখা থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগীর জন্য খুব বেশি কার্যকরী বা দামি হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পণ্যের আসল নিবন্ধন, সরকারি অনুমোদন, উপাদানের সত্যতা ও আমদানির বৈধতা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে যদি কোনো বিশেষ কোম্পানি বা পণ্যের বিক্রি বাড়ানো হয় এবং এর পেছনে যদি অনৈতিক আর্থিক লেনদেন থাকে, তবে তা কেবল ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়, বরং চিকিৎসা পেশার নীতি ও নৈতিকতার ওপর এক বিরাট আঘাত। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসি চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে থাকে এবং এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।
একজন মানুষ যখন অসুস্থ হন, তখন তিনি সম্পূর্ণ আস্থা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রেসক্রিপশনে যা লেখা থাকে, তা নিজের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মনে করেই রোগী বা তার স্বজনরা কষ্ট করে ওষুধ কিনে নেন। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যদি কোনো বাণিজ্যিক চক্র রোগীদের প্রতারিত করে অতিরিক্ত মূল্যের ওষুধ বিক্রি করে, তবে তা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করে।
তাই ডিমলা এলাকায় পাওয়া যাওয়া এসব উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট ওষুধের উৎস, অনুমোদন, আমদানিকারক, প্রকৃত ক্রয়মূল্য, সরকার নির্ধারিত দাম ও চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে এটি ব্যবহারের আসল কারণ দ্রুত তদন্ত করা দরকার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানি, ওষুধ ব্যবসায়ী, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং যেসব চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে নিয়মিত এই ওষুধগুলো লেখা হচ্ছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
সাধারণ মানুষের জীবন ও কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে এমন অনৈতিক কারসাজি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত ডিমলার বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব ওষুধের গুণগত মান, নিবন্ধন ও অতিরিক্ত দামের স্টিকার লাগানোর বৈধতা পরীক্ষা করুক। একই সাথে কমিশনের বিনিময়ে ওষুধ লেখার অভিযোগটিরও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক, কারণ সেবা দেওয়ার প্রেসক্রিপশন কখনো কোনো কোম্পানির কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যম হতে পারে না।
ওষুধের গায়ে কেন বাড়তি মূল্যের স্টিকার লাগানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মাল্টিক্যাল ওষুধের প্রতিনিধি বা এমপিও লাহু বসুনিয়া অতিরিক্ত স্টিকার লাগানোর বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এই বিষয়ে তার নিজের কিছু করার নেই। তিনি কেবল চাকরি করেন এবং কোম্পানি থেকে যে মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়, তিনি দোকানে সেই দামে বিক্রি করে টাকা আদায় করে কোম্পানির মূল কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেন। ঠিক একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন জয়েন্টব্লেস ওষুধের প্রতিনিধি মাসুদ রানা।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ