1. info2@icrbd24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@icrbd24.com : admin :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

রণক্ষেত্র বীরগঞ্জ: শ্মশানকালী মন্দিরে তাণ্ডব চালিয়ে আদিবাসী পল্লীতে আগুন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

মোশাররফ হোসেন সিনিয়র রিপোর্টার (বীরগঞ্জ), দিনাজপুর
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামে এক পৈশাচিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার জমি দখলের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সহিংসতায় বাদ যায়নি উপাসনালয় কিংবা সাধারণ মানুষের বসতবাড়িও। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াবান্দ গ্রামের কাদেরের ছেলে রেজাউল এবং আজগর সাহার ছেলে আজাদের নেতৃত্বে প্রায় দেড় থেকে দুইশ জনের এক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আদিবাসী ও ধর্মান্তরিত খৃষ্টান পাড়ায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে আদিবাসীদের শ্মশানকালী মন্দিরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং মন্দিরের প্রতিমাটি ব্যাপক ভাঙচুর করে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় আদিবাসীদের কবরস্থানের জমি দখলকে কেন্দ্র করে। ১৫০ দাগের ৯৩ শতক জমির গাছ জোরপূর্বক কাটতে শুরু করলে স্থানীয় আদিবাসীরা তাদের পৈত্রিক ভিটা ও শেষ ঠিকান রক্ষায় বুক চিতিয়ে বাধা দেয়। আদিবাসীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে একপর্যায়ে সন্ত্রাসী বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হলেও যাওয়ার আগে তারা এক নারকীয় তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া তীরে গনেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ ওরফে ভোন্দা বুকে এবং সাবানা মুরমু পিঠে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তারা বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা জানান, জমি দখলের আগে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসীরা মঙ্গল ওরফে যাকব মুরমুর ছেলে পিউস মুরমুর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে পিউসকে বেধড়ক মারধর করে মারাত্মক আহত করা হয় এবং বাড়ির মহিলাদের লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে পাষণ্ডরা বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো পল্লীতে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অসহায় মানুষগুলো যখন তাদের ঘরবাড়ি আর উপাসনালয় বাঁচাতে মরিয়া, তখন হামলাকারীরা বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি ও এসআই দীনেস রায় একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বীরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সরেজমিনে এই ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসীদের এই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।

এই নক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল ও আজাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিবাদমান জমি নিয়ে সংঘর্ষে আদিবাসীদের পাল্টা হামলায় তাদের পক্ষের লোকজনও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় একটি থমথমে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিজ ভূমিতে পরবাসী হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে বীরগঞ্জের আদিবাসী পল্লীর মানুষগুলো।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2013- 2026