1. info2@icrbd24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@icrbd24.com : admin :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

বাকস্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা বলা নয়

সংবাদদাতা: icrbd24
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

বাকস্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা বলা নয়

এবিএম সোহেল রশিদ 

মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে বাকস্বাধীনতা অন্যতম। চিন্তা, মতামত ও বিশ্বাস প্রকাশের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রাণশক্তি। তবে এই স্বাধীনতা কখনোই সীমাহীন নয়; বরং এটি দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত। তাই “বাকস্বাধীনতার নামে যা খুশি তা বলা যায় না”—এই বক্তব্যটি শুধু যুক্তিযুক্তই নয়, বরং একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের জন্য অপরিহার্য সত্য।
সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক মহল থেকে বাকস্বাধীনতার নামে এমন কিছু বক্তব্য উচ্চারিত হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি ও মানহানির পর্যায়ে পড়ে। জনতার মধ্যে মতপ্রকাশের সমান অধিকার অবশ্যই থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালাগালি বা অনৈতিক শব্দ উচ্চারণ কখনোই সেই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে এবং দেশের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে—
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
অর্থাৎ সংবিধান স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে ‘নৈতিকতা’, ‘শালীনতা’, ‘জনশৃঙ্খলা’ ও ‘মানহানি’র বিষয়গুলোকে সীমারেখা হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই সীমারেখাগুলো সুচিন্তিতভাবে প্রণীত এবং সমাজের সার্বিক কল্যাণে অপরিহার্য।
প্রথমত, বাকস্বাধীনতা মানে এই নয় যে কেউ অন্যের সম্মানহানি করবে। ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা জাতির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক বা অপমানজনক বক্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য শুধু মতপ্রকাশ নয়, বরং তা সহিংসতা ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। ফলে এ ধরনের বক্তব্যকে “বাকস্বাধীনতা” বলে বৈধতা দেওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, আইন ও নৈতিকতার সীমা রয়েছে। প্রতিটি দেশের সংবিধান বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করলেও একই সঙ্গে কিছু যৌক্তিক সীমারেখা নির্ধারণ করে। মানহানি, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, উস্কানিমূলক বক্তব্য বা মিথ্যা তথ্য প্রচার—এগুলো সমাজের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে বলেই আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত।
তৃতীয়ত, সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রশ্ন অনিবার্য। আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে যে কেউ সহজেই তার মতামত প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু এই সহজলভ্যতা দায়িত্বহীন বক্তব্যকে প্রশ্রয় দেয় না। যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা সমাজে গুজব তৈরি করে, যা কখনো কখনো বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা অত্যন্ত জরুরি।
চতুর্থত, স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য অপরিহার্য। যদি সবাই “যা খুশি তাই বলার” অধিকার দাবি করে, তবে সমাজে বিশৃঙ্খলা অনিবার্য হয়ে পড়বে। অন্যের অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মান জানিয়ে নিজের মত প্রকাশ করাই প্রকৃত স্বাধীনতা। আমার স্বাধীনতা সেখানেই শেষ, যেখানে অন্যের অধিকার শুরু।
সবশেষে বলা যায়, বাকস্বাধীনতা একটি মূল্যবান ও অপরিহার্য অধিকার, কিন্তু এটি কখনোই সীমাহীন নয়। দায়িত্বহীন ও ক্ষতিকর বক্তব্যকে স্বাধীনতার আড়ালে বৈধতা দেওয়া যায় না। যুক্তি, শালীনতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে মতপ্রকাশই একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত পরিচায়ক। তাই বাকস্বাধীনতার সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2013- 2026