দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আত্রাই নদীর মাধবঘাটে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসবে হানা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাল্টাপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খানসামা উপজেলার ভাবকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম তুহিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইন অমান্য করে এই বালু লুটের কারবার চলছিল।

অভিযান পরিচালনা করেন বীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন। প্রশাসনের উপস্থিত টের পেয়ে ড্রেজারের চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও হাতেনাতে ধরা পড়ে অবৈধ ড্রেজারটি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান তহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জব্দকৃত মেশিনটি বর্তমানে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানার জিম্মায় রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানকে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আত্রাই নদীর এই অংশে বালু খেকোদের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এলাকাবাসী। গত ১৩ এপ্রিল টলেন চন্দ্র, টংক নাথ ও বিকাশ চন্দ্রসহ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তুহিন চেয়ারম্যান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে বীরগঞ্জ সীমানা থেকে কোটি কোটি টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে আসছেন। গত সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতা লায়ন চৌধুরীর সাথে আঁতাত করে চললেও, বর্তমানে তিনি স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নিজের সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত করেছেন বলে অভিযোগে জানানো হয়। ইজারা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে আগ্রা বালু মহালের দোহাই দিয়ে তিনি বীরগঞ্জ সীমানার বালু লুণ্ঠন করছিলেন।

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই তীরের ঘরবাড়ি, মসজিদ, মন্দির ও আবাদি জমি এখন চরম হুমকির মুখে। এমনকি ইতিপূর্বে ড্রেজিংয়ের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে পড়ে মাধবঘাট এলাকায় দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। চলতি বঙ্গাব্দে ইজারা না পেয়েও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্ষমতার দাপটে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছিলেন এই নেতা। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত ভূমি প্রশাসন এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম তুহিন চেয়ারম্যান ড্রেজার ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে তিনি জানান, সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে ভুলবশত বীরগঞ্জ সীমানায় খনন হয়ে থাকতে পারে, যা আইন পরিপন্থী। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বীরগঞ্জ থানার ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি চলছে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই ভূমিকায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মনে।