আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে গৃহবধূ রত্না রাণী দাশকে হত্যার পর লাশ গুমের ঘটনায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সুশীল দাশকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৯ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানিক দল।
ঘটনাটি ঘটেছে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামে। গ্রেপ্তার সুশীল দাশ ওই গ্রামের কুড়ের পাড় এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মহরলাল দাশের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে সুশীল দাশের সঙ্গে রত্না রাণী দাশের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দিয়া বালা দাশ নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। অভিযোগ রয়েছে, সুশীল দাশ অন্যদের প্ররোচনায় বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তিনি স্ত্রীকে আর সংসার করবেন না বলে জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। তবে সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সংসারের কথা চিন্তা করে রত্না স্বামীর বাড়িতেই থেকে যান।
১৭ অক্টোবর রাতে মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রত্না। পরদিন সকালে তাঁকে বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে সুশীল দাশ তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানান এবং নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রত্নার সন্ধান পাননি।
পরে ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রত্নার ভাই শ্রীনিবার দাস আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খবর পান, সুশীল দাশের বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি পুকুরে তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহের দুই হাত রশি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং বস্তাবন্দি অবস্থায় পাথর দিয়ে পানির নিচে চাপা দেওয়া ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রত্নার ভাই শ্রীনিবার দাস বাদী হয়ে সুশীল দাশকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, সুশীল দাশ ও অন্যরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর বোন রত্নাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পুকুরের পানিতে পাথর দিয়ে চাপা দিয়ে রেখেছিলেন। নাসিরনগর থানার মামলা নম্বর ২১, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৬। মামলাটি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় করা হয়েছে।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এসআরবি-৯ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে অভিযান সফল হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি সুশীল দাশকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার সুশীল দাশকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাসিরনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839