নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বোড়াগাড়ী হাসপাতাল এলাকার দিনমজুর ধীরেন ঋষির স্ত্রী কমিলা ঋষি দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। বয়স মাত্র চল্লিশ বছর, কিন্তু দূরারোগ্য রোগটির থাবায় তার স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। গত দুই বছর ধরে এই রোগের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটির সমস্ত জমানো সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। গৃহস্থালির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে গৃহপালিত গরু-ছাগল বিক্রি করে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে। একসময়ের শান্ত ও সুন্দর সংসারটিতে এখন নেমে এসেছে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও অন্ধকার।
ধীরেন ঋষি পেশায় একজন দিনমজুর ও ফেরিওয়ালা। নিজের সামান্য আয় দিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তাদের জীবন বেশ ভালোই কাটছিল। কিন্তু দুই বছর আগে স্ত্রীর শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের হাসিখুশি সংসারে শুরু হয় চরম বিপর্যয়। কঠিন ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার মুখোমুখি হয়ে পরিবারটি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব অবস্থায় পৌঁছেছে।
বর্তমানে কমিলা ঋষি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আব্দুল কাদের জিলানীর অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকের সঠিক তত্ত্বাবধানে ও নিয়মিত সেবায় তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় অর্থ। অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা পুরো পরিবারটিকে চরম দিশেহারা করে তুলেছে।
রোগের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে জমানো সবকিছু হারিয়ে এখন তাদের একমাত্র শেষ সম্বল হিসেবে রয়ে গেছে মাথার ওপরের ভিটাবাড়ীটুকু। এই পরিস্থিতিতে ভিটেমাটিটুকু হারিয়ে গৃহহীন হওয়া থেকে বাঁচতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সমাজের হৃদয়বান, বিত্তবান ও দানবীর ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন কমিলা ঋষি ও তার পরিবার। রোগটিকে পরাস্ত করে স্ত্রীকে সুস্থ করে তোলার জন্য বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার স্বামী। আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি বিকাশ ও নগদ নম্বর (০১৭৬৪-৪৬৮-৪১৩) প্রদান করা হয়েছে। সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষের সামান্য সহায়তাই পারে এই অসহায় পরিবারটির মুখে আবার হাসি ফোটাতে এবং কমিলা ঋষিকে একটি নতুন জীবন উপহার দিতে।