রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গোপন খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাকিবুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানকালে কথিত মাদক কারবারি রাকিবুল ইসলামের শয়নকক্ষ থেকে ১৭ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেট ও গুঁড়া অবস্থায় মাদক জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫১ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছে অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার ৯ আগস্ট গঙ্গাচড়া থানাধীন বেতগাড়ী ইউনিয়নের দোন্দরা বালাপাড়া এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়, রংপুর ক-সার্কেলের একটি বিশেষ দল। এই অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন পরিদর্শক এস এম এলতাস উদ্দিন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বেতগাড়ী বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মালের রোস্তমের ছেলে রাকিবুল ইসলামের বসতঘরের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালায় আভিযানিক দলটি। সেখানে তল্লাশিকালে গোলাপি রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় থাকা ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের মোট ওজন ৩ গ্রাম এবং বাকি ভাঙা ও গুঁড়া অবস্থায় আরও ১৪ গ্রাম মাদক জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মাদকের সর্বমোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ গ্রাম।
অভিযান শেষ করার পর উদ্ধার করা সকল আলামত ও গ্রেপ্তারকৃত রাকিবুল ইসলামকে গঙ্গাচড়া থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনে লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গঙ্গাচড়া থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধিত ২০২৬-এর ৩৬ এর ১ সারণির ১০ এর ক ধারায় ৭ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই মামলার সার্বিক তদন্তের দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়, রংপুর ক-সার্কেল গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
একই দিনে পরিচালিত পৃথক আরেকটি অভিযানে গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কেশামত শেরপুর নদীর পাড় এলাকা থেকে মোঃ খায়রুল ইসলাম এবং গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ভূটকা এলাকা থেকে মোঃ দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় বার্তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।