• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত গংগাচড়ায় হেরোইন-ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে এক বাংলাদেশি আটক, পাসপোর্ট আইনে মামলা গঙ্গাচড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, এইচএসসি পরীক্ষার্থীর প্রাণহানি গঙ্গাচড়ায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে যুবসমাজের ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত পাকা ধানে মই দিলে ফসল মেলে না: ফলাফল শূন্য হওয়ার আগেই থামা উচিত দিনাজপুরে বাবা-সৎভাই হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে দুই ভাই গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার নাশকতা চেষ্টা ও সরকার উৎখাতের মামলায় পঞ্চগড়ের সাবেক এমপির স্ত্রী কাজী মৌসুমী কারাগারে অবুঝ মেয়েটার জন্য না খেয়ে কাঁদছেন মা, বুকফাটা আর্তনাদ পঞ্চগড়ের নুর আলমের

১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

সংবাদদাতা:
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে এক সুরক্ষিত আশ্রয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ এক অন্যায়ের চিত্র সামনে এসেছে। জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তথা পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরই প্রশাসনিক তৎপরতায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার রাতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই বিয়োগান্তক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক অসহায় পরিবারের নীরব কান্নার ইতিহাস। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছিলেন। মেসের সেই চেনা পরিবেশের সূত্রে ধরে ১২ বছরের এই শিশুটিরও তদন্ত কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। যেখানে তার নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই তাকে শিকারে পরিণত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগে বলা হয়েছে, তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম বিভিন্ন সময় শিশুটিকে তার ব্যক্তিগত বাসায় ডেকে নিতেন। সেখানে অসহায় শিশুটিকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও নানা ধরনের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়, ঘটনার ভয়াবহতা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে ক্রমাগত মানসিক চাপের মধ্যে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, এই নৃশংসতার কথা যেন কেউ জানতে না পারে, সেজন্য শিশুটিকে প্রতিনিয়ত ভয় দেখানো হতো এবং মুখ বন্ধ রাখার জন্য বিভিন্ন সময় টাকার প্রলোভনও দেওয়া হতো। অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণের মুখে নিজেদের ও সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিবারটি এতদিন এই গভীর ক্ষত ও আতঙ্ক বুকে চেপে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য আর চাপা থাকেনি, পরিবারের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধ্য হন।

এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী হিমেল জানান, ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর হাতিয়া ও তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষ এখন এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবি তুলছেন। একই সঙ্গে তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে যেন দেশের প্রচলিত আইনে কঠোরতম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তারা। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেছেন, পুরো অভিযোগটি নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


More News Of This Category