লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার ভোটমারী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মামলার ২ নম্বর আসামি মো. জামিনুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামি মো. রফিকুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. তুহিন মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি এলাকায় মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে যায়। ওই সময় চিহ্নিত মাদক কারবারি হামিদুল ইসলাম পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাকে জনসম্মুখে তল্লাশি করার সময় সে চিৎকার শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালনরত ওই পুলিশ সদস্যের পকেট থেকে হ্যান্ডকাফের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আটক হামিদুলের হাতকড়া খুলে তাকে মাদকসহ নিয়ে চম্পট দেয়।
আইনশৃঙ্খলার ওপর এমন আঘাত ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পর দিন, অর্থাৎ ১৯ জুলাই হাতীবান্ধা থানার এসআই তুহিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটিয়েই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে আত্মগোপনে চলে যায়। তবে তাদের গ্রেফতারে বিন্দুমাত্র ঢিলেঢালা ভাব না দেখিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব। দীর্ঘ নজরদারির পর বৃহস্পতিবার রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ অভিযান পরিচালনা করে এবং দুই আসামিকে জালে তুলতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবেদনশীল এই ঘটনার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের ধারাবাহিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।