সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৮ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউল করিম এখন এক মর্মান্তিক পারিবারিক স্বজন হারানোর চরম আঘাত সামলে উঠছেন। গত তিন মার্চ বসতঘরে ঢুকে একদল সশস্ত্র লোক তাঁদের ওপর হামলা চালায়। সেই হামলায় কবি রেজাউল করিম এবং তাঁর চাচা মিজান মিয়া গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় তাঁর পিতা চানফর আলীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে এই ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাত মার্চ একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর জিআর ১০৩। মামলায় অভিযুক্ত আসামি হিসেবে সোহান, আফিজ, লেবু, জুবায়ের, আলিফ, ফরহাদ, সানুর এবং মোবাশিরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
তবে ঘটনার চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি বা আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট না পাওয়ায় গভীর অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্বজনহারা পরিবারটি। স্থানীয় প্রতিনিধি এবং পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কোনো অদৃশ্য চাপ কিংবা অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অভিযুক্ত অপরাধীদের সুরক্ষার চেষ্টা চলছে এবং সত্য আড়াল করে মামলার রিপোর্ট আটকে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচার চান। একজন সুপরিচিত তরুণ কবি ও স্থানীয় জনসেবকের ওপর এমন আক্রমণের পেছনে প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এমন স্থবির ভূমিকায় এলাকার সাধারণ মানুষের মনেও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারটির একটাই আকুল দাবি, কোনো ধরনের অপশক্তির প্রভাবে নতি স্বীকার না করে সত্যের পথে থেকে পুলিশ প্রশাসন যেন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।