নীলফামারীর ডোমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সমাজ থেকে মাদকের কুপভাব দূর করার লক্ষ্যে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে থানা পুলিশ। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ১০ জন মাদক মামলার আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী। গত রবিবার রাত থেকে শুরু হয়ে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটানা এই মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে পুলিশ আসামীদের হেফাজত থেকে বিপজ্জনক হিরোইন, গাজা এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। অভিযানে পুলিশ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সফলতা পায়। এর আগে ট্রাকচাপায় মা ও তাঁর দুই সন্তানসহ চারজন নির্মমভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ট্রাকচালক খোকন সাকিদারকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই চালক এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যদিকে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে ডোমার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম চিলাই এলাকার মৃত নওয়াব আলীর ছেলে উনআশি বছর বয়সী নুর ইসলাম, তাঁর সন্তান একান্ন বছর বয়সী মনোয়ার হোসেন, পৌর এলাকার চিকনমাটি সবুজ পাড়া এলাকার শহিদুলের ছেলে আঠারো বছর বয়সী শাহাজাহান, বুলবুল ইসলামের ছেলে চব্বিশ বছর বয়সী সাজু ইসলাম সজিব এবং শহিদুলের ছেলে ত্রিশ বছর বয়সী পারভেজ ইসলামকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আটক করে। আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তাঁদেরকে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শায়লা সাঈদ তন্বীর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার বিশ্লেষণ করে তাঁদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কাউকে এক বছর এবং কাউকে ছয় মাস মেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই অভিযানে ডোমারের ছোট রাউতা ডাঙ্গা পাড়া এলাকার এমদাদুল হকের ছেলে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী রেজাউল করিম রাজু, মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে বাহান্ন বছর বয়সী গোলাপ হোসেন, মকবুল হোসেনের ছেলে ৩৮ বছর বয়সী রহিদুল ইসলাম এবং পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মন্দির পাড়া এলাকার জোতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে ২৯ বছর বয়সী সুমন রায়কে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। তাঁদের তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ হিরোইন, গাজা ও বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার দুপুরে তাঁদেরকে নীলফামারী জেলার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ডোমার উপজেলাকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করেছেন।