পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মাঠের ফসল ঘরে তোলার পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে দুই কৃষকের বেদনাদায়ক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে উপজেলার সদর ও দন্ডপাল ইউনিয়নে পৃথক দুটি স্থানে এই বিয়োগান্তক পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রকৃতির এই অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজ কর্মস্থলেই প্রাণ হারান তারা। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত কৃষকদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিরাজ করছে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম তেলিপাড়া এলাকার কৃষক মামুন ইসলাম নিজের জমিতে পাট কাটার কাজ করছিলেন। ৩০ বছর বয়সী মামুন ইসলাম ওই এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে। আকাশ মেঘলা থাকায় দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ তীব্র শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি সরাসরি এর আঘাতে গুরুতর জখম হন। মাঠে থাকা অন্যান্য চাষিরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিকুর রহমান তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার জীবনাবসান ঘটে বলে চিকিৎসকরা জানান।
ঠিক একই দিন প্রায় কাছাকাছি সময়ে উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় ঘটে আরেকটি দুঃখজনক ঘটনা। সেখানে নিজের ফসলি জমিতে কাজ করছিলেন ৬০ বছর বয়সী প্রবীণ কৃষক আকাব্বর খান। বৃষ্টির মধ্যে মাঠের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তীব্র বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর আঘাত হানে। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে প্রবীণ এই কৃষকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বজ্রপাতের এই দুটি পৃথক ঘটনায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দুই সাধারণ কৃষকের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। মৃতদের পরিবারগুলোতে এখন চলছে মাতম। দেবীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালেক পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনা দুটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষ।