পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে আবদুল মালেক নামে এক কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দিঘির পানিতে একটি দেহ ভাসতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দিঘি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে উদ্ধারের সময় ওই কিশোরের মরদেহের সঙ্গে একটি চিরকুট পাওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া চিরকুটটিতে কিশোরের মৃত্যুর পেছনে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিকে দায়ী করার দাবি করা হয়েছে। মৃত কিশোরের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তার নাম আবদুল মালেক, বয়স ১৭ বছর। সে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মাগুরা এলাকার মালাদাম গ্রামের রইসউদ্দিনের ছেলে। সকালে সাধারণ মানুষ যখন দিঘির পাড়ে আসছিলেন, তখন হঠাৎ পানিতে দেহটি ভাসতে দেখে চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। কিশোরের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত চলে যাওয়া এবং তার সাথে পাওয়া রহস্যময় চিরকুটের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এখন চলছে শোকের মাতম।
এই বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, মরদেহের হাতে পাওয়া চিরকুটটি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জব্দ করা হয়েছে। চিরকুটে ঠিক কী লেখা রয়েছে এবং যেসব বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করার জন্য ঘটনার সব দিক অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে। বর্তমানে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর রয়েছে।