মাদক নয়, খেলাধুলায় মিলবে জয়—এই প্রত্যয় ও বার্তা নিয়ে নীলফামারীর ডোমারে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রাণবন্ত নারী ফুটবল প্রীতি ম্যাচের। বুধবার বিকালে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডোমার ফুটবল একাডেমি এই বিশেষ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করে। স্থানীয় মাঠজুড়ে তখন জমে উঠেছিল প্রীতি ম্যাচের আলোড়ন, যা দেখতে শত শত ফুটবলপ্রেমী মানুষ ভিড় জমান। পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছিল ক্রীড়ামোদী দর্শকের উপস্থিতিতে।
ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফুটবল প্রীতি ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন নীলফামারী জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেহেরুন আক্তার পলিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সফল ফুটবলার অসিত সাহা। মাদক থেকে তরুণ ও নতুন প্রজন্মকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী করার এমন উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার ফারুক হোসেন, সাবেক ফুটবলার কবির হোসেন, বকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য সুধীজন। তাদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ডোমার ফুটবল একাডেমি এবং বগুড়া নারী ফুটবল দলের মধ্যে এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দলই মাঠজুড়ে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ঝড় তোলে। দুই দলের খেলোয়াড়দের কৌশল ও শারীরিক দক্ষতার লড়াই পুরো সময়জুড়ে দর্শকদের টানটান উত্তেজনায় ধরে রাখে। উভয় দলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হয়নি। গোলশূন্য সমতায় খেলা শেষ হওয়ায় দুই দলের শক্তিমত্তার চিত্র ফুটে ওঠে।
পরবর্তীতে খেলার নিষ্পত্তি ঘটাতে ট্রাইবেকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাইবেকারে চরম উত্তেজনার মুহূর্ত পেরিয়ে ৪-৩ গোল ব্যবধানে ডোমার ফুটবল একাডেমিকে পরাজিত করে জয়ের হাসি হাসে বগুড়া নারী ফুটবল দল। দারুণ লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা। পরাজয় সত্ত্বেও স্থানীয় ডোমার ফুটবল একাডেমির নারী খেলোয়াড়দের লড়াই ও ক্রীড়াশৈলী উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের অভিবাদন জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেহেরুন আক্তার পলিন বলেন, শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ সমাজকে মাঠে ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। ছেলেদের পাশাপাশি দেশের নারী ফুটবল দলগুলো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদান রাখছে। ডোমারে আয়োজিত এই প্রীতি ম্যাচ স্থানীয় নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আগামী দিনে এই এলাকার মেয়েরাও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।