সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিটি পোস্ট করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শুক্রবার বেলা ১১টায় পঞ্চগড়ের সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই আহ্বানের কথা জানান। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে বর্তমানে সমগ্র দেশজুড়ে বিস্তৃতভাবে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এই বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ ও নদী রক্ষায় গাছের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী এবং গাছের মধ্যে অত্যন্ত গভীর একটি সম্পর্ক রয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও নদীপাড়ের সুরক্ষায় নদীর ধারে ব্যাপকভাবে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন গড়ে তোলা হবে। পরিবেশগত বিজ্ঞানের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, মানুষ পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে, অন্যদিকে গাছ আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি মানুষের গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
মেলা ও জাতীয় প্রচারণার অংশ হিসেবে সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী পর্বের পর একই স্থানে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বা র্যালি বের করা হয়। বর্ণাঢ্য এই র্যালিটি পঞ্চগড় শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সরকারি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে ও আকাশে বেলুন উড়িয়ে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু এবং জেলা জজ আদালতের পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।