• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত গংগাচড়ায় হেরোইন-ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে এক বাংলাদেশি আটক, পাসপোর্ট আইনে মামলা গঙ্গাচড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, এইচএসসি পরীক্ষার্থীর প্রাণহানি গঙ্গাচড়ায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে যুবসমাজের ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত পাকা ধানে মই দিলে ফসল মেলে না: ফলাফল শূন্য হওয়ার আগেই থামা উচিত দিনাজপুরে বাবা-সৎভাই হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে দুই ভাই গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার নাশকতা চেষ্টা ও সরকার উৎখাতের মামলায় পঞ্চগড়ের সাবেক এমপির স্ত্রী কাজী মৌসুমী কারাগারে অবুঝ মেয়েটার জন্য না খেয়ে কাঁদছেন মা, বুকফাটা আর্তনাদ পঞ্চগড়ের নুর আলমের

গাইবান্ধায় জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন চাচাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুল জলিলকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত ২৮ জুন রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব মৌচাক কাঁচাবাজার এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া এই প্রধান আসামি আব্দুল জলিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হরিরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পৈতৃক জমির দীর্ঘদিনের বিরোধ যে শেষ পর্যন্ত রক্তের সম্পর্কের এক প্রবীণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেবে, তা হয়তো ভাবেনি স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় নিহত হওয়া ৬৫ বছর বয়সী কফিল উদ্দিন ছিলেন গ্রেফতারকৃত আব্দুল জলিলের আপন চাচা। পৈতৃক ৬৬ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কফিল উদ্দিনের সঙ্গে তার শরিকদের বিরোধ চলে আসছিল, যা শেষ পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী ও শোকাবহ রূপ ধারণ করে।

র‌্যাব ও মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বর্গাচাষি আতাউর রহমান ধান কাটতে যান। সে সময় অভিযুক্তরা জমিতে গিয়ে ধান কাটতে সরাসরি বাধা দেন এবং বর্গাচাষিকে মারধর করতে শুরু করেন। ধান কাটার জমিতে গোলমালের খবর পেয়ে কফিল উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রধান আসামি ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এই নির্মম হামলার সময় নিজের স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান কফিল উদ্দিনের স্ত্রী জুলেখা বেগম। কিন্তু হামলাকারীরা এতটাই হিংস্র হয়ে উঠেছিল যে, জুলেখা বেগমও তাদের হামলার শিকার হন এবং গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় আশপাশের মানুষ তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রবীণ কফিল উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম নিজে বাদী হয়ে গত ১ মে ২০২৬ তারিখে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে আসামিরা এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পর থেকে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-১৩ তাদের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৩, গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এই গ্রেফতারের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।


More News Of This Category