খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ ২০ই এপ্রিল, ২০২৬ সোমবার এক বিশেষ কর্মচাঞ্চল্য পরিলক্ষিত হয়। বেলা ১১টার দিকে অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুরু হয় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা এবং মার্চ মাসের অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোরতোজা আলী খাঁন। মানবিক আর পেশাদারিত্বের এক অনন্য মিশেলে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব মোঃ মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যগণ।

সভার শুরুতেই পুলিশ সুপার মহোদয় এক অভিভাবকের মতন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন। কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা তাদের ছুটি, বেতন-ভাতা, আবাসন সংকট, রেশন এবং ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং অনেকগুলো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। যেসব সমস্যা সমাধানে সময়ের প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দিয়ে তিনি বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পুলিশ সুপার জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো অসাধু চক্র যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে। এ লক্ষ্যে জেলা পুলিশের সকল ইউনিটকে সার্বক্ষণিক সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পুলিশ কোনো প্রকার আপস করবে না বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তদন্তাধীন মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি কিছুটা কড়া বার্তা দিয়েছেন। গত এক বছরে দায়ের হওয়া যেসকল মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি কিংবা চার্জশিট প্রদান করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ মোরতোজা আলী খাঁন খাগড়াছড়ির শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন যে, পেশাদারিত্বের মূল চাবিকাঠি হলো নিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের সাথে মার্জিত ব্যবহার। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া জেলার মাদক নির্মূল, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং চোরাচালান রোধে বিশেষ অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। উপস্থিত সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আগামী দিনে আরও মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।