পঞ্চগড়-২ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের রায়ে বিজয়ের মালা পরেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ। ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৩,৬৮৬ ভোট পেয়ে তিনি এক বিশাল জয় ছিনিয়ে এনেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ১,২৭,৬০৮ ভোট। এই জয়ের ব্যবধান যেমন বিশাল, তেমনি এই জয়ের পেছনের গল্পটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচনী মাঠের এই অভাবনীয় ফলাফলের পেছনে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের ঐতিহাসিক দেবদারু তলা এবং বোদা উপজেলার ধানহাটি মাঠের সেই উত্তাল জনসমুদ্রের কথা আজ সবার মুখে মুখে। সেদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় আর সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা আবেগের সামনে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্থানীয় জনতা তখন একসুরে দাবি তুলেছিলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই অবহেলিত জনপদ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যেন মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। জনগণের প্রাণের সেই দাবি অনুভব করতে পেরে সেদিন মির্জা ফখরুল দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, “আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করুন, ফরহাদ হোসেন আজাদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।”
মহাসচিবের সেই একটি বাক্যই যেন নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। বোদা ও দেবীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা মির্জা ফখরুলের সেই আশ্বাসে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। ফরহাদ হোসেন আজাদ এই অঞ্চলে একজন ‘সাদা মনের মানুষ’ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক হিসেবে পরিচিত। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করেছে যে, তারা তাদের প্রিয় নেতাকে কেবল এমপি হিসেবে নয়, বরং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দেখতে চান। ধানের শীষের এই বিজয় আসলে সাধারণ মানুষের সেই আজন্ম লালিত স্বপ্নেরই প্রতিফলন।
দেশজুড়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে পঞ্চগড়ের জনপদে একটাই গুঞ্জন, একটাই কৌতূহল—‘ফখরুল স্যার কি তাঁর কথা রাখবেন?’ দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আড্ডাগুলোতে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ফরহাদ হোসেন আজাদের সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, একজন পরিচ্ছন্ন ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে আজাদের মূল্যায়ন হওয়া এখন সময়ের দাবি। নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে আজাদকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করলে কেবল এই এলাকার উন্নয়নই ত্বরান্বিত হবে না, বরং রাজনীতি ও নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, জনগণের আস্থার প্রতিদান হিসেবে ফরহাদ হোসেন আজাদের কাঁধে নতুন সরকারের বড় কোনো দায়িত্ব অর্পিত হয় কি না।