দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১৬.৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি অতি প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য কালো পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে র্যাব-১৩। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১১ মে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নতুন বাজার এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের একটি দোকানে অবৈধভাবে প্রত্নসম্পদ কেনাবেচা ও পাচারের প্রক্রিয়া চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে গোবিন্দপুর নতুন বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৩-এর একটি বিশেষ দল। সেখানে ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের সার ও কীটনাশকের দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় একটি সাধারণ ব্যাগের ভেতরে অতি সযত্নে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় এই মহামূল্যবান বিষ্ণু মূর্তিটি পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত এই কষ্টি পাথরের মূর্তির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৫ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৭.৫ ইঞ্চি। অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এই অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিবরামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রউফ এবং পার্শ্ববর্তী ডাবরা জিনেস্বরী গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ৫৪ বছর বয়সী ওসমান গণি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা এই অমূল্য প্রত্নসম্পদটি সংগ্রহ করে অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। দীর্ঘদিনের পুরনো এই মূর্তিটি বিক্রির জন্য তারা এই কীটনাশকের দোকানটিকে গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং এটি একটি জাতীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১২ মে মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই পাচারকারী চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।