পঞ্চগড়ের রাজনীতিতে যখন ভোটের উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখন ক্ষমতার চিরাচরিত মোহের বাইরে গিয়ে এক অনন্য মানবিক ঘোষণা দিলেন পঞ্চগড়-২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লার’র প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফি।
রোববার সকালে বোদা উপজেলার সাকোয়া বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে সরকার থেকে প্রাপ্ত সম্মানীর একটি টাকাও নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করবেন না। তার এই ঘোষণা কেবল কথার কথা নয়, বরং অতীতের আমলনামা তুলে ধরে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন। সফিউল্লাহ সুফি বলেন, ২০১৪ সালে যখন তিনি বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, তখনও তিনি তার সম্মানী ভাতার কানাকড়ি নিজের জন্য রাখেননি। সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দেন যে, এমপি হিসেবে প্রাপ্য মূল বেতন, টিএ-ডিএ বিলসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা তিনি সরাসরি মসজিদ, মন্দির এবং এলাকার অসহায় মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দেবেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন যে, রাজনীতি তার কাছে ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম নয়, বরং একটি আদর্শ ও সুস্থ সমাজ গঠনের পথ। তার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের সেবা করা, আর সেই সেবার মানসিকতা থেকেই তিনি নিজের সব সরকারি বরাদ্দ উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেছেন। ব্যক্তিগত তহবিলের পাশাপাশি সরকারি কোষাগার থেকে আসা প্রতিটি টাকা দুস্থ ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যয় হবে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান। নির্বাচনী ময়দানে যখন প্রার্থীরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যস্ত, তখন সফিউল্লাহ সুফির এই ‘নিঃস্বার্থ রাজনীতির’ ডাক বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে পঞ্চগড়-২ আসনের সচেতন ভোটাররা এই ত্যাগের মহিমাকে কতটা মূল্যায়ন করেন।