বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির আজ বগুড়া জেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর সম্পন্ন করেছেন। দিনব্যাপী এই সফরে তিনি জেলায় আয়োজিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পেশাদার কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের সংযোগ বাড়াতে একাধিক উদ্যোগের সূচনা করেন। সফরের প্রতিটি কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সফরসূচির অংশ হিসেবে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বগুড়ার শাহজাহানপুর থানা প্রাঙ্গণে একটি পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি নিজে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই অংশগ্রহণ পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

বৃক্ষরোপণ শেষে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির সরাসরি স্থানীয় জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হতে কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং এবং গ্রামীণ জনপদে উঠান বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তিনি মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে হলে আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে। পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে মানবিক আচরণ করার ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন, যেন পুলিশকে মানুষ বিপদের সবচেয়ে বড় বন্ধু মনে করতে পারে।

সফরের দ্বিতীয় অংশে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির ৪র্থ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের কাজের তদারকি করেন। পরে তিনি সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সাথে একটি বিশেষ কল্যাণ সভা ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও গতিশীলতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে তিনি জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের এই বগুড়া সফর মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে নতুন এক গতিশীলতা তৈরি করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই সরজমিন পরিদর্শন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথোপকথন বাংলাদেশ পুলিশের জনবান্ধব চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সাথে এটি পুলিশ ও জনতার পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
