নীলফামারীর ডোমারে একটি মালবাহী ট্রাক এবং বিপরীত দিক থেকে আসা মিথিলা পরিবহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অপ্রীতিকর ও বিয়োগান্তক পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত দুইজন মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ২২ মে সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে ডোমার থেকে দেবীগঞ্জগামী মহাসড়কের সোনারায় বাজারের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ এলাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারী অভিমুখী একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সাথে বিপরীত দিক অর্থাৎ নীলফামারী থেকে ডোমার অভিমুখে যাওয়া একটি মিথিলা পরিবহনের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। মুখোমুখি এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই মিথিলা পরিবহনের চালক মমিনুল ইসলাম প্রাণ হারান। নিহত মমিনুল ইসলাম ডোমার উপজেলার চিলাহাটি কাওলা সবুজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম মৃত মফিজ উদ্দিন। এই ঘটনার সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিকাশ চন্দ্র নামের এক পথচারীও তীব্র আঘাত পান। চলন্ত পরিবহনের ধাক্কায় তিনি মারাত্মকভাবে জখম ও গুরুতর আহত হন। নিহত বিকাশ চন্দ্র ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মাহিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অকুঞ্জ চন্দ্র রায়ের ছেলে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ডোমার ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারী বিকাশ চন্দ্রকে উদ্ধার করে অনতিবিলম্বে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ তাঁর সঙ্গী ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে জনতাকে শান্ত করেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। বড় ধরনের এই দুর্ঘটনার পরেও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সদস্যরা নিহত দুই ব্যক্তির নিথর দেহ উদ্ধার করে ডোমার থানায় নিয়ে আসেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।