নীলফামারীর ডোমারে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সক্ষমতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। “অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এই বিশেষ সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার সকালে ডোমার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চত্বরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী। দেশের প্রতিটি প্রান্তে অগ্নি ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ধার কাজের প্রস্তুতি যাচাই করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

পতাকা উত্তোলনের পরপরই টিম লিডার প্রভাত চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একটি সুশৃঙ্খল প্যারেড ও বিভিন্ন উদ্ধার কাজের ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন। মহড়ায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর দক্ষতা তুলে ধরা হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টেশন চত্বরে রাখা অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি পরিদর্শন করেন। যন্ত্রপাতিগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে তারা বিস্তারিত ধারণা নেন এবং মাঠপর্যায়ে অগ্নিযোদ্ধাদের প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।
পরিদর্শন শেষে ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার জাহিদুল হকের সভাপতিত্বে এবং আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল বাহিনীর সক্ষমতা যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের সচেতনতা প্রতিটি নাগরিকের জানমালের সুরক্ষায় প্রধান ভূমিকা রাখে।
উপস্থিত অতিথিরা বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, অগ্নিঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষকে করণীয় সম্পর্কে জানাতে উপজেলা ও বিভিন্ন জনবহুল স্থানে আরও বেশি সচেতনতামূলক ডিসপ্লে প্রদর্শন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার এবং ব্যস্ত এলাকাগুলোতে অগ্নি সুরক্ষা বিষয়ক মহড়া নিয়মিত পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। পুরো আয়োজনটি নীলফামারীর ডোমার অঞ্চলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। পরিশেষে, দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় অগ্নিযোদ্ধাদের এই নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে এবং সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।