পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ, গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের উৎসবের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে এই বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেবীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে এক উৎসবমুখর এবং আবেগঘন পরিবেশে এই সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
দুর্যোগের আকস্মিক আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই কিংবা জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঈদের আগে এই সরকারি সহায়তা তাদের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত এই মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক। দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এবং তাদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সংহতি প্রকাশ করেন দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক, দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মো. তোবারক হ্যাপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১নং চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, দেবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়া অসহায় মানুষগুলোর কষ্ট লাঘব করতে এই অনুষ্ঠানে উপজেলার মোট ৮২টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০ কেজি করে চাল এবং নগদ ৩ হাজার টাকা। পবিত্র ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে এই চাল ও নগদ অর্থ পেয়ে পরিবারগুলোর চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ দেখা যায়। অনেক অসহায় মানুষ এই সহায়তার জন্য প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মানবিক এই সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য সুধীজন। উপস্থিত অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সংকটের সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সামান্য উপহার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সামাজিকভাবে পুনর্গঠিত হতে এবং ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রশাসনের এমন মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।