পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা উপজেলায় দীর্ঘদিনের পুরনো একটি ভোট কেন্দ্র বাতিল করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রটি আগের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার বিকেলে বোদা উপজেলার সাকোয়া বাজারে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবুল বাসার বসুনিয়া।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুরে অবস্থিত ‘জয়কৃষ্ণ বলহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ কেন্দ্রে দীর্ঘকাল ধরে ১ হাজার ৪১ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছিলেন। এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই কেন্দ্রটি পরিবর্তন করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রটি সরিয়ে প্রার্থীর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মেনাগ্রাম বেগম ফেরদৌসি হাফেজিয়া ফোরকানিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায়’ নেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, নতুন এই প্রস্তাবিত কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা মাত্র ৪৩৬ জন এবং এটি পূর্বের কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা
সংবাদ সম্মেলনে আবুল বাসার বসুনিয়া বলেন, “ভোটারদের হয়রানি করতে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা মনে করি, অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র দখলের ছক হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে প্রার্থীর বাসার পাশে এই কেন্দ্র নেওয়া হয়েছে।”
গৃহীত পদক্ষেপ
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে বজায় রাখতে তারা ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত এই আবেদনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্বের কেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জনদাবি মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা তসলিম উদ্দীন, জেলা শুরা সদস্য হাসিনুর রহমানসহ স্থানীয় ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।