1. info2@icrbd24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@icrbd24.com : admin :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ দিনের পথে সাংবাদিকতার চোখে

ওসি সোয়েল রানা: এক ব্যতিক্রমী অফিসারের গল্প

আই জামান চমক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

আই জামান চমক: দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার পেশাগত জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রাইম বিট। ফলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে শুরু করে থানার প্রতিটি ফাড়ি পর্যন্ত আমার অবাধ যাতায়াত। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের ‘ভিতর-বাহির’ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।

আমার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের তালিকায় উচ্চপদস্থ অনেক সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে যাদের সঙ্গে সখ্যতা হয়েছিল, তারা অনেকেই আজ এসপি বা অতিরিক্ত এসপি। তাদের মধ্যে এমনও আছেন যারা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় নিজেদের কলম সচল রেখেছেন। তবে সময়ের ব্যস্ততা কিংবা কাজের ক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণে আজকাল ওসিদের সঙ্গে কথা বলাটা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে; একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আর আলাপ হয় না।

তবুও, আমার জন্মভূমি দেবীগঞ্জ থানার ওসি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে হয়। না রাখলেও বিভিন্ন মাধ্যমে সেসব খবর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। গণমাধ্যমে সম্পাদনার টেবিলে যেমন বিভিন্ন নিউজে তাদের কর্ম আসে, তেমনই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল বা সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও তাদের খবর আসে। কেউ ফোন করে হয়তো অভিযোগ করেন, “ওসি এই করেছেন, ওই করেছেন—একে বদলি করা যায় না?” এটাই স্বাভাবিক। একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কখনোই সবার বন্ধু হতে পারেন না। অনেকের বিরাগভাজন হওয়া তার পেশারই একটি অংশ।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড বা প্রাণ হলো এই ওসি পদাধিকারীরা। ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার এই ব্যক্তিরাই মূলত একটি থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ রাখেন। অনেক সরকারি কর্মকর্তা কেবল দায়সারাভাবে কাজ করে দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেন। কিন্তু দেবীগঞ্জ থানার সদ্য বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা ছিলেন সেই গতানুগতিকতার বাইরে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র।

তিনি কেবল একজন পুলিশ কর্মকর্তাই ছিলেন না, ছিলেন সত্যিকারের একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। দেবীগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ রাখতে তিনি দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন। তার সঠিক দিকনির্দেশনা ও কৌশলের কারণেই দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে, যার সুফল ভোগ করেছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

ব্যক্তিগতভাবে আমি কৃষি, বৃক্ষ আর মাটি নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি; বাগান করা আমার নেশার মতো। যখন জানলাম ওসি সোয়েল রানা একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ, তখন মনে হলো যেন তিনি আমারই সারথি। তার এই দিকটি আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। তিনি দেবীগঞ্জ থানা ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে বিভিন্ন শাকসবজি, ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করেছেন। ইতোমধ্যে সেখানে ফলনও হয়েছে বাম্পার, যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। থানা মসজিদের উন্নয়ন ও অন্যান্য নানামুখী ইতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, তিনি কেবল ডিউটি শেষ করা অফিসার নন; নিজের দায়বদ্ধতা থেকে দেশ ও মাটির জন্য হৃদয়ের ভালোবাসা উজাড় করে দিতে জানেন।

আমাদের সমাজের ভয়াবহ দিকগুলির অন্যতম হলো মাদক। অনিয়ন্ত্রিত মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ। ওসি সোয়েল রানা এই মাদক নির্মূলে ছিলেন অত্যন্ত সোচ্চার ও কৌশলী। তার বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ এই উপজেলায় মাদকের ভয়াবহতা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে সক্ষম হয়েছিল।

এছাড়াও, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও তার ভূমিকা ছিল যথেষ্ট প্রশংসনীয়। দেশের একটি ক্রান্তিলগ্নে বা দুঃসময়ে তিনি দেবীগঞ্জ থানায় যোগদান করেছিলেন, যখন শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি সেই চ্যালেঞ্জ তো অতিক্রম করেছেনই, একই সাথে বাড়তি অনেক কিছুই করেছেন, যা প্রমাণ করে সোয়েল রানা একজন মেধাবী ও দূরদর্শী মানুষ।

‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন’—এই নীতিকে ধারণ করে তিনি প্রকৃত অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি করেছেন এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি ছিল—নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করা। ওসি সোয়েল রানা-এর বক্তব্য ছিল, “একজন নিরপরাধ মানুষও যাতে হয়রানি না হয়।” তিনি তার কাজের মাধ্যমে এই বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে তাকে প্রকাশ্যে বা গোপনে হুমকি-ধামকি দেওয়া হলেও, তিনি সেই রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে তার করণীয় কাজটি করে গিয়েছেন।

আমার সঙ্গে তার সরাসরি দেখা না হলেও, আমি তার কর্মকে দেখতে পেয়েছি। সদ্য বিদায়ী ওসি সোয়েল রানা  শুধু একজন অফিসার ইনচার্জ ছিলেন না, বরং তিনি যেন ছিলেন এই অঞ্চলের মানুষের একজন বন্ধু। প্রকাশ্যে ও গোপনে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার অবদান ছিল, যা তাকে সত্যিই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তার নতুন কর্মস্থলে শুভ হোক তার আগামীর দিনগুলো—সেই প্রত্যাশা ও শুভেচ্ছা জানাই।
লেখক: কবি, কথা সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2013- 2026