দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবার নামে কোনো প্রকার অবহেলা বা অব্যবস্থাপনা আর সহ্য করা হবে না বলে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু। সম্প্রতি বীরগঞ্জ এলাকার ক্লিনিকগুলোতে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অপারেশন করতে গিয়ে যদি কোনো ক্লিনিকে একজন রোগীরও মৃত্যু হয়, তবে সেই ক্লিনিক তাৎক্ষণিকভাবে এবং আজীবনের জন্য সীলগালা করে দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো সুযোগ বীরগঞ্জের মাটিতে দেওয়া হবে না।
সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু এলাকার সব ক্লিনিক মালিকদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কঠোর ও পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, যদি তারা ক্লিনিক চালাতে চান, তবে অবশ্যই সরকারি নীতিমালা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অদক্ষতা মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিটি অস্ত্রোপচারের সময় বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষজ্ঞ সার্জন এবং এনেসথেসিয়া ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ল্যাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চুক্তিভিত্তিক সার্টিফাইড মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, যারা এই সক্ষমতা রাখেন না, তারা যেন নিজ উদ্যোগে ক্লিনিক বন্ধ করে দেন।
রোগীদের সার্বক্ষণিক তদারকি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য একটি নির্দিষ্ট জনবল কাঠামোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ক্লিনিকে অন্তত একজন বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত এমবিবিএস ডাক্তার বা মেডিকেল অফিসার, তিনজন ডিপ্লোমা নার্স এবং নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখতে হবে। এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কোনো সুপারিশ বা তদবির কাজে আসবে না বলেও তিনি সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, ক্লিনিকে মানুষ মেরে ফেলে যদি কেউ তার কাছে সাহায্যের জন্য ফোন দেন বা ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে আসেন, তবে তিনি কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখাবেন না বা সুপারিশ করবেন না। নিয়ম মেনে চলাই একমাত্র পথ।
বীরগঞ্জকে একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবার নগরীতে পরিণত করার স্বপ্ন নিয়ে সংসদ সদস্য পার্শ্ববর্তী চিরিরবন্দরের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, চিরিরবন্দর যদি শিক্ষার নগরীতে পরিণত হতে পারে, তবে বীরগঞ্জ কেন স্বাস্থ্যসেবায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না? তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আফরোজ সুলতানা লুনাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে এই বিষয়ে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, যেসব ক্লিনিকে মাঝেমধ্যেই রোগী মারা যাওয়ার খবর আসছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ যারা মারা যাচ্ছেন তারা আমাদেরই কারো মা, কারো বোন কিংবা কারো স্ত্রী। তাদের প্রাণের মায়া সবার আগে। ক্লিনিক মালিকদের সাবধান করে দিয়ে দিনাজপুর-১ আসনের এই জনপ্রতিনিধি পুনরায় মনে করিয়ে দেন যে, মানুষের জীবন রক্ষায় তিনি আপোষহীন এবং বীরগঞ্জ-কাহারোল এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি যে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবেন না।