কুড়িগ্রামের শান্ত সকালটি আজ মুখরিত হয়ে উঠেছিল একদল অধিকারকামী মানুষের জোরালো দাবিতে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বঞ্চনার ক্ষোভ নিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে সমবেত হয়েছিলেন বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং দলের নিবন্ধনসহ ৫ দফা দাবিতে তাদের এই মানববন্ধন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না, বরং তা ছিল রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার এক দৃঢ় আকুতি। বক্তাদের কণ্ঠে বারবার উঠে এসেছে সেই আক্ষেপের কথা—আইনি সব শর্ত পূরণ করার পরেও কেন তাদের নিবন্ধন সনদটি বছরের পর বছর অযৌক্তিকভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে? একে তারা সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
মানববন্ধনে আসা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও যৌক্তিক। তারা এমন এক নির্বাচন কমিশন চান, যেখানে অস্বচ্ছতা বা পক্ষপাতিত্বের কোনো জায়গা থাকবে না। বিগত দিনের ‘রাতের ভোট’ কিংবা এক ব্যক্তির একাধিক ভোট দেওয়ার যে বিকৃত সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার কঠোর সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন ব্যবস্থা চায় না। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ এবং এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে কেন অভিযোগ নিষ্পত্তি বা নিবন্ধনের কাজে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তারা। একই সাথে সব দলের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এই প্রতিবাদ সভায় কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান লেলিন ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মজনু থেকে শুরু করে ভূরুঙ্গামারী, রাজারহাট এবং রৌমারী উপজেলার স্থানীয় নেতারা একই সুরে রাজপথে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। তাদের প্রতিটি কথাতেই ফুটে উঠেছে একটি ইনসাফভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বপ্ন। এই আন্দোলন এখনই থামছে না; যতক্ষণ না তাদের এই ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ তারা শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দিনশেষে এই মানববন্ধন কেবল একটি দলের দাবি নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও মর্যাদাবোধ রক্ষার এক বলিষ্ঠ প্রতীকে পরিণত হয়েছে।