• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডিমলায় তিস্তা নদীতে টাস্কফোর্সের অভিযান: ১৬টি নৌকা ও ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট, সরঞ্জাম জব্দ নেপালের বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তন কোনো সীমান্ত মানে না বীরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় নজরুল বর্ষ ও মনোজ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে একজন কারাদণ্ড ও দুই আসামি কারাগারে গঙ্গাচড়ায় আমেরিকান প্রযুক্তি নির্ভর ডেইরি ফার্ম ও ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের মাঠে টানার আহ্বান রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের দেবীগঞ্জে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত সভার আয়োজন দেবীগঞ্জে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ ইউএনও’র কাছে: ন্যায় বিচারের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার বিদ্রোহী কবির ঘরে ফেরা, এক অতৃপ্ত প্রেমের গল্প গঙ্গাচড়ায় মেলা আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: চেক-স্ট্যাম্প দেখিয়ে তদন্তের দাবি কৃষক দল নেতার

ডিমলায় তিস্তা নদীতে টাস্কফোর্সের অভিযান: ১৬টি নৌকা ও ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট, সরঞ্জাম জব্দ

আয়না বারী, ডিমলা (নীলফামারী)
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তিস্তা নদীর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে এক কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ১৬টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং ৪টি শ্যালো মেশিন পুরোপুরি বিনষ্ট করে দেওয়া হয়।
এই অভিযান চলাকালে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত অন্যান্য নানা সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৩টি লৌহদণ্ড, ১২টি প্লেন সিটের তৈরি লোহার ডালি এবং ৬টি বেলচা। জব্দ করা এসব মালামাল পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় বার্ণিঘাট বিওপির জিম্মায় রাখা হয়েছে।

টাস্কফোর্সের এই অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়ন ৫১ বিজিবির মেজর জুলকার নাঈন এবং ডিমলা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযানে বিজিবির ৬২ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে। তাদের এই সমন্বিত ও কঠোর অবস্থানের কারণে অভিযানটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী থেকে একটি গোষ্ঠী অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হচ্ছিল, যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়ছিল নদীর প্রাকৃতিক গতিপথের ওপর। এতে নদীর তীরভাঙনের ঝুঁকি যেমন মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে, তেমনি চরম হুমকির মুখে পড়েছে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক আবাসন। পাশাপাশি নদীর প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সামগ্রিক কৃষি পরিবেশও এক গভীর সংকটের মুখে পড়ছিল।

পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাথর বা বালু উত্তোলন কেবল তাৎক্ষণিকভাবে নদীর পরিবেশ ধ্বংস করে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে নদীর সার্বিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও স্বাভাবিক প্রবাহকে বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে ও প্রকৃতির ভারসাম্য ধরে রাখতে আইন এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ শতভাগ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
অভিযানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিস্তা নদী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবাধ ব্যবহারের সম্পদ নয়। এটি দেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং এর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। অবৈধ পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে যেন কোনোভাবেই নদীর পরিবেশ বা জনস্বার্থের ক্ষতি করা না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, তিস্তা নদীর সুরক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। নদীর ক্ষতি করে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত যে কোনো নৌযান বা যন্ত্রপাতির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এ ধরণের ঝটিকা ও কঠোর অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে এত বড় নদীর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। নদী রক্ষা করতে হলে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়সহ প্রতিটি মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হতে হবে। কোথাও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের খবর পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর এবং এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে কোনো সহযোগিতা না করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মূলত তিস্তা নদীকে রক্ষা করার অর্থ হলো স্থানীয় নদীপাড়ের মানুষের জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাই নদীর ওপর এই অন্যায্য ও অবৈধ নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ডিমলার সচেতন নাগরিক সমাজ।


এরকম আরও সংবাদ