• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গঙ্গাচড়ায় মেলা আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: চেক-স্ট্যাম্প দেখিয়ে তদন্তের দাবি কৃষক দল নেতার গঙ্গাচড়ায় নির্জন স্থান থেকে বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে অজানা কারণ হাজারীবাগের মাদক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে রাজেশ ও নিখিল, রাজনৈতিক প্রভাব ও সোর্স পরিচয় ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ মাদক পরিহার করে মেধাকে দেশ গঠনে কাজে লাগানোর আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির টানে বীরগঞ্জে মেলা: পাতা খেলাকে ঘিরে উৎসবে মাতলো দু’মুখা বাজার সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতগাড়ী ইউনিয়নের খাপড়ীখালে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ডোমারে ভাঙনকবলিত হরিডারা স্লুইসগেট পরিদর্শনে সংসদ সদস্য, দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস নীলফামারী ও গাইবান্ধায় র‌্যাবের পৃথক অভিযান: ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ২ বীরগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরে অগ্নিকাণ্ড: গবাদিপশুসহ বিপুল ক্ষতির মুখে রসুলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বীরগঞ্জে একই দিনে ব্যবসায়ী ও দুই শিক্ষকসহ তিন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রয়াণ

গঙ্গাচড়ায় মেলা আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: চেক-স্ট্যাম্প দেখিয়ে তদন্তের দাবি কৃষক দল নেতার

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এক পক্ষের সংবাদ সম্মেলনে ওঠা যাবতীয় অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে চুক্তিনামা, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের বৈধ কাগজপত্র, চেক এবং স্ট্যাম্পের হিসাব সংবাদকর্মীদের সামনে হাজির করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. শহিদুল হক। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। গত শনিবার গঙ্গাচড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব লিখিত বক্তব্য ও নথি উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় মো. শহিদুল হক জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ৪০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের উদ্যোগ হিসেবে গত ৪ মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি স্মারকের মাধ্যমে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন হলে ৭ এপ্রিল মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে মেলা আয়োজন সংক্রান্ত একটি দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির সময় চুক্তি অনুযায়ী মাহবুব হোসেনকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
তিনি বিষয়টির ধারাবাহিকতা বর্ণনা করে আরও বলেন, গত ২ মে মেলা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং সার্বিক রেজুলেশন সম্পন্ন করা হয়। এরপর ৬ মে জমির লিজ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ৪৫ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সকল কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হয়।
শহিদুল হকের দেওয়া তথ্যমতে, পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট বিজয় দিবস উপলক্ষে ৬০ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই বিষয়ে যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাজধানী ঢাকা থেকে একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে আগমন করে। তাদের রংপুর অবস্থানকালীন থাকা-খাওয়া সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক নানা খরচের বড় অংশই সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হয়েছিল।
তবে গত ২৩ আগস্ট মেলার মূল অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সঠিক ব্যবস্থা করতে চরম ব্যর্থ হন মাহবুব হোসেন। এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা থেকে আসা প্রতিনিধি দলকে রংপুরে রেখে হঠাৎ নিজের বাড়িতে চলে যান। এ ঘটনায় পুরো মেলা আয়োজনের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করে।
তিনি আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলেন, এই উদ্ভূত জটিলতার পর গত ২৪ আগস্ট মেলা কমিটির পাওনা ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে মাহবুব হোসেন সম্পূর্ণ স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় নিজ হাতে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। এই সংক্রান্ত সকল লিখিত চুক্তিপত্র, রেজুলেশন কপি, অর্থ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র, স্বাক্ষর করা চেক এবং স্ট্যাম্প বর্তমানে তাদের কাছে শতভাগ সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের দিকে ওঠা নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. শহিদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে যদি বিন্দুমাত্র অনিয়মের অভিযোগ থেকে থাকে, তবে যেন প্রশাসন দিয়ে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করানো হয়। মেলা সংক্রান্ত সকল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই, অর্থ লেনদেনের মূল হিসাব পরীক্ষা এবং এর সাথে সরাসরি জড়িত সকল ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
কৃষক দলের এই নেতা স্পষ্টভাবে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে কোনো ব্যবস্থা তিনি সানন্দে মেনে নেবেন। কিন্তু তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অন্য কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা সংবাদকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন শহিদুল হক। তার দেওয়া তথ্যমতে, বিভিন্ন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একই ধরনের কৌশলের আশ্রয় নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই টাকা ফেরত না দেওয়া কিংবা প্রতিশ্রুত কাজ সম্পন্ন না করার একাধিক অভিযোগ ইতোমধ্যে তার কানে এসেছে। তবে প্রশাসনিকভাবে এসব অভিযোগের শতভাগ সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত মাহবুব হোসেনকে সরাসরি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে তিনি রাজি নন।
মো. শহিদুল হক আরও বলেন, সাধারণ মানুষের এসব অভিযোগ যদি বিন্দুমাত্র সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই আইনগত তদন্তের দাবি রাখে। তাই কেবল তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই নয়, মাহবুব হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে যে বিপুল টাকা লেনদেন করেছেন তারও উপযুক্ত তদন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি অনুরোধ করেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, মূল চুক্তিপত্র, রেজুলেশনের নথি, অর্থ লেনদেনের প্রমাণাদি, স্বাক্ষর করা চেক এবং স্ট্যাম্প সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ নিখুঁতভাবে যাচাই করে মূল সত্য ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, মেলা আয়োজন সংক্রান্ত কোনো টাকা আত্মসাৎ কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল সত্য উদঘাটন করা দরকার। যার কাছে যে পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে, তা আইনগত ও ন্যায়সংগত উপায়ে অবিলম্বে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনের একদম শেষ পর্যায়ে মেলা আয়োজনের পুরো অর্থ লেনদেনের হিসাব এবং মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড় উঠেছে। এর ফলে ঘটনার পেছনের আসল কারণ ও বিপুল অর্থ লেনদেনের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সকল নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।


More News Of This Category