নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হরিডারা নদীতে গত জুলাই মাসের তিন তারিখে দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যায় ভেঙে যায় গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটটি। সেই পানির তীব্র তোড়ে শুধু অবকাঠামোই বিনষ্ট হয়নি, পাশেই থাকা কয়েকটি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায় নদীগর্ভে। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত যাতায়াত পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের এই পথটি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভোগে থাকা এই মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। শুক্রবার বিকাল তিনটায় তিনি ভাঙনকবলিত এলাকাটি ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বানের তোড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সংসদ সদস্য যখন হরিডারা এলাকায় পৌঁছান, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। এলাকা পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য জানান, এই স্থানে মানুষের কষ্ট দূর করতে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত এই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের এই অনির্দিষ্টকালের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে উপস্থিত ছিলেন ডোমার আইডিয়াল একাডেমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোসলেহু উদ্দিন শাহ কোরাইশী। পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্লুইসগেট ভেঙে চরম বিপর্যয় তৈরি হওয়ার পরপরই খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন। সেসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে কিছুটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও আশা ব্যক্ত করেন যে, সরকার যদি দ্রুততার সাথে এই সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়, তবে অবহেলিত এই এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা রবিউল আলম, জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা শাহাজান আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল হাই সরকার এবং নিরোদা বালাসহ এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।
ভাঙনকবলিত এই এলাকায় নতুন সেতু তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তাই সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের পর এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।