নীলফামারী ও গাইবান্ধায় গভীর রাতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করেছে নীলফামারী ও গাইবান্ধা ভিত্তিক র্যাব-১৩ এর সদস্যরা। অভিযান চলাকালে মাদকের কারবারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি। মাদক নির্মূলে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিটে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। ওই সময়ে র্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের একটি চৌকস দল নীলফামারীর ডোমার থানাধীন সোনারায় আমিনুর হাজির মোড় এলাকার একটি পাকা সড়কে অবস্থান নেয়। সেখানে সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে ১৯০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। একই স্থান থেকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে ছোটরাউতা ডাংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইত্রিশ বছর বয়সী মো. মাসুদ পারভেজ সোহেলকে গ্রেপ্তার করে সংবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর কিছুক্ষণ পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গাইবান্ধা সদর থানার পূর্ব সবুজপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় সফল অভিযানটি পরিচালনা করে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের অপর একটি আভিযানিক দল। ওই গোপন অভিযানে ০.০৭ গ্রাম ওজনের ৬ পুরিয়া ক্ষতিকর হেরোইন এবং ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে পূর্ব সবুজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছেচল্লিশ বছর বয়সী মো. হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক আইনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলে আটককৃত উভয় ব্যক্তি স্বীকার করেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ এলাকায় অবৈধ উপায়ে এই ধরনের ক্ষতিকর মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। উদ্ধার করা সর্বমোট মাদকদ্রব্য ও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে ডোমার এবং গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র্যাব বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। সমসাময়িক এই সফল মাদকবিরোধী অভিযানের সার্বিক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।