আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: সীমান্ত এলাকা টেকনাফে আবারও ধরা পড়েছে ভয়াবহ মানবপাচার চক্রের হিংস্র থাবা। এবার ভাগ্য অন্বেষণে বের হওয়া দুই নাবালক রোহিঙ্গা কিশোর শিকার হয়েছে তাদের অমানবিক প্রলোভন ও জিম্মিদশার। তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মালয়েশিয়ায় ভালো জীবনের আশায় বের হওয়া ১৪ বছর বয়সী ওই দুই কিশোর মুক্তি পেয়েছে পাচারকারীদের কব্জা থেকে। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের উনচিপ্রাং ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেকপোস্টে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা এপিবিএনের সদস্যরা সতর্কতার সাথে অভিযান চালিয়ে এই কিশোরদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। একই সাথে এই নৃশংস মানবপাচার ও অর্থ আদায় চক্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে দুই রোহিঙ্গা পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের পরিচয় শনাক্ত করে জানা গেছে, তারা উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর ই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অধিবাসী সৈয়দুল আমিন ও মফিজুর রহমান। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এই দুই কিশোর পরিবারের অসচ্ছলতা ও উন্নত জীবনের আশাকে কাজে লাগিয়ে একদল সুযোগসন্ধানী পাচারকারী তাদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে। গত ৬ অক্টোবর এই চক্রের সদস্যরা কিশোরদের প্রলোভন দেখায় যে তাদের নিরাপদে ও অল্প খরচে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। সরল বিশ্বাসে সাড়া দিলে চক্রটি তাদের বালুখালী এলাকা থেকে একটি নৌকায় তুলে সরাসরি মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আসল নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলিং। পাচারকারীরা দুই কিশোরকে মিয়ানমারের ভেতরে জিম্মি করে রাখে এবং তাদের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। বাধ্য হয়ে স্বজনরা স্বজনদের বাঁচাতে তাদের হাতে তুলে দেয় নগদ ৯৫ হাজার টাকা।
মুক্তিপণের অর্থ হস্তান্তরের পর পাচারকারীরা ওই কিশোরদের দেশে ফিরিয়ে এনে সীমান্ত পার করার ছক আঁকে। বৃহস্পতিবার সকালে নাফ নদী পার হয়ে কিশোর দুটিকে উনচিপ্রাং ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এপিবিএন চেকপোস্ট এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে কর্মরত এপিবিএন সদস্যদের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে তারা ধরা পড়ে। সদস্যদের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের থামিয়ে জেরা ও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে এবং পুলিশ নিশ্চিত হয় যে দুই কিশোর পাচারকারীদের হাতে জিম্মি ছিল। পরিস্থিতি বুঝে মুহূর্তের মধ্যেই এপিবিএন সদস্যরা শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা দুই রোহিঙ্গা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ এবং উনচিপ্রাং ২২ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে টেকনাফ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬-এর ৬, ৭ ও ২২ ধারায় ২৩ অক্টোবর মামলাটি রুজু হয়, যার নম্বর ৮৩। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির পাশাপাশি উদ্ধারকৃত কিশোর সৈয়দুল আমিন ও মফিজুর রহমান এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের এপিবিএনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পাহারায় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৬ এপিবিএনের দায়িত্বশীল সূত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এহেন তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপে একটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেল দুই নিষ্পাপ প্রাণ।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839