• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে এলজিইডি’র এলসিএস মহিলা কর্মীদের মাঝে সঞ্চয়ের চেক বিতরণ গংগাচড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযান: মোটরসাইকেল ও ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালককে গ্রেপ্তার ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২ বোতল ফেনসিবিলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার রংপুরে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সাভার থেকে গ্রেফতার রংপুরে তালাবদ্ধ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার পঞ্চগড়ে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা জামায়াত পঞ্চগড়ে সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষ করতে ১৮ বিজিবির ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু বীরগঞ্জে ৩২০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার, থানায় মামলা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারস চাষে বাম্পার ফলন, ৭৬০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

সংবাদদাতা:
সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫

এ বছর টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের আনারস চাষিরা রেকর্ড ফলন এবং দারুণ দামে অত্যন্ত খুশি। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৭ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে মধুপুরেই ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর। এই বিশাল আবাদ থেকে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গরমের কারণে বাজারে আনারসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেশ ভালো। এই অনুকূল পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ এ বছর আনারস থেকে প্রায় ৭৬০ কোটি টাকার বিশাল বাণিজ্য হবে বলে আশাবাদী।

 

জিআই স্বীকৃতি ও চাষাবাদে বৈচিত্র্য

সম্প্রতি মধুপুরের লাল মাটির আনারস ‘জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা চাষিদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এই স্বীকৃতির ফলে এই অঞ্চলের আনারস বিশ্ব দরবারে আরও বেশি পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধুপুরের উর্বর মাটিতে বিভিন্ন জাতের আনারস চাষ হয়। এর মধ্যে ‘জলডুগি’ এবং ‘ক্যালেন্ডার’ জাত প্রধান। এছাড়াও, ‘এমডি-টু’ নামের ফিলিপাইনের একটি জাতও ১৮ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে।

জমজমাট বাজার ও লাভজনক বাণিজ্য

মধুপুরের সবচেয়ে বড় আনারসের বাজার হলো জলছত্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন আনারস কিনতে। বর্তমানে ভালো চাহিদা থাকায় এবং প্রচুর পাইকারের আনাগোনায় বাজার অত্যন্ত সরগরম। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচ তুলে বেশ ভালো লাভ করছেন।

স্থানীয় চাষি শাহীন বলেন, “আগের চেয়ে এখন দাম ২-৩ টাকা বেশি পাচ্ছি। পাইকারদের চাহিদা অনেক থাকায় এমন হচ্ছে।” আরেক চাষি সুরুজ আলী জানান, “আনারসের চারা লাগানো থেকে শুরু করে ফল কাটা পর্যন্ত একটি আনারসে ১৫-১৮ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখন ভালো দাম পাওয়ায় লাভও বেশি হচ্ছে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ভালো ফলন পান। একইসঙ্গে, তিনি কৃষকদেরকে দ্রুত পাকানোর জন্য অতিরিক্ত হরমোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারা এমডি-টু জাতের আনারস বিদেশে রপ্তানির চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস চাষিরা এবার ফলন ও দাম উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্যের মুখ দেখছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন গতি এনে দিয়েছে।


More News Of This Category