নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে এক পুত্রবধূকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শ্বশুর খায়রুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে ডোমার থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত খায়রুল ইসলামের বয়স ষাট বছর এবং তিনি ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া সাহার মোড় এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। বিগত ২৬ শে জুন রাত ২টায় ভোগডাবুড়ী ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ এবং তদন্তের তথ্য সুত্রে জানা যায় যে, খায়রুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেনের সাথে বিগত ৩ বছর পূর্বে সিরাজগঞ্জ জেলার সংলা থানার হরমুজ আলী ফকিরের কন্যা পিথী বেগমের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ মাস বয়সের ১টি ছোট্ট ছেলে সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই শ্বশুরবাড়ীর লোকজন প্রায় নিয়মিতভাবে পিথী বেগমকে শারীরীক ও মানুষিক নির্যাতন করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ২২ মে রাত ১০টায় পরিবারের লোকজন পিথীকে মারপিট করে এবং একপর্যায়ে পিথীর স্বামী ফারুক হোসেন তার স্ত্রীর পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২দিন পর অর্থাৎ ২৫ মে পিথী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই বিয়োগান্তক ঘটনার পর পিথীর বড়বোন রমিছা বেগম বাদী হয়ে ডোমার থানায় শ্বশুর খায়রুল ইসলাম, শাশুড়ি এবং স্বামী ফারুকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই গ্রেফতারকৃত আসামী খায়রুল ইসলাম দির্ঘদিন যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে বা পলাতক অবস্থায় ছিলেন। অবশেষে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আনিছুজ্জমান আনিস একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভোগডাবুড়ী ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ফারুকের পিতা খায়রুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ এই গ্রেফতারের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, গ্রেফতারকৃত খায়রুল ইসলামকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জেলার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে আর কোনো কারণ বা তথ্য রয়েছে কি না তা জানতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।