সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলামকে ‘দৈনিক প্রলয়’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের দাবি জানিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে আনন্দ খান নামে এক ব্যক্তি এ অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২২ জুলাই ঢাকার শাহবাগ থানাধীন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জনাব তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়।
এ ঘটনার জেরে ২০২৫ সালে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. শহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা (মামলা নং-৭৫৪/২০২৫) দায়ের করা হয়। পরে পিবিআই, ময়মনসিংহ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতাকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রলয়’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক রোজিনা আক্তার প্রকৃত তথ্য গোপন করে এ নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চক্রটির বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিন কোটি টাকা চেক দিয়ে ডিসি পদায়ন এবং একটি টাকার চেক দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আলোচিত হয়েছে। এরপর থেকেই আত্বগোপনে চলে গেলেন রাজাচক্র।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর কাওরান বাজারের কাব্যকোষ ভবনের চতুর্থ তলায় ‘দৈনিক প্রলয়’-এর কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বিদ্যুৎ বিল ও ভবনের ভাড়া বকেয়া থাকায় ভবন কর্তৃপক্ষ কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ৯ জনের কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোমিন তালুকদার ও হৃদয়সহ কয়েকজনের বেতন বকেয়া রেখে প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় ‘দৈনিক প্রলয়’ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযোগপত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ‘দৈনিক প্রলয়’ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশনও দায়ের করা হয়েছে যা শোনানির অপেক্ষায় রয়েছে।