নীলফামারীর সদর উপজেলার চাপড়া সুকানপুকুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক জটিল পরিস্থিতি এখন মামলা, পাল্টা মামলা আর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিদুল ইসলামকে নির্যাতনের অভিযোগে তার পুত্রবধূ মুক্তা খাতুন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
চাপড়া সুকানপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মুক্তা খাতুন লিখিত বক্তব্যে জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে তার শ্বশুর নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মজিদুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী তহমিনা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি তাকে তালাক দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ করা হয়, গত ১৭ জুন তহমিনা বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন মজিদুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালান। বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধ মজিদুলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার ছেলে ওবায়দুল ইসলামও গুরুতর আহত হন। দুজনকেই নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে ওবায়দুলের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর মজিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নীলফামারী থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে পাল্টা মামলায় মজিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়।
মুক্তা খাতুন বলেন, “প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং সামাজিকভাবে আমাদের হেয় করতে রবিউল ইসলাম অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মামলার একজন আসামি প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি, এটি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে আইনের আওতার বাইরে থাকছেন। এতে মজিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সন্তানেরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।