• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঈদের ছুটিতেও বন্ধ হয়নি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা: স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ কুড়িগ্রামের গোলেরহাটে উৎসবমুখর পরিবেশে ৭ হাজার মুসল্লির ঈদুল আযহার নামাজ আদায় বীরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত শিশু ধর্ষণ: নির্দোষের ফাঁসি এবং আমাদের আবেগী বিচার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রংপুরবাসী ও দেশবাসীকে বেসিক লিফটের স্বত্বাধিকারী মোঃ ময়েন উদ্দীন বাবুর শুভেচ্ছা দেবীগঞ্জে ঈদুল আযহা উপলক্ষে মহিলা দল নেতাকর্মী ও দুস্থ রোগীদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ কচাকাটায় ফি-সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ও দ্বীনি সেবামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাহাঙ্গীর হাসানের শুভেচ্ছা ঈদে রংপুরে নিরাপত্তা জোরদার, মাঠে থাকবে র‍্যাব-১৩ রংপুর, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? রংপুরকে বদলে দেবেন আব্দুল মালেক

ঈদের ছুটিতেও বন্ধ হয়নি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা: স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে RDRS Bangladesh পরিচালিত “জননী” প্রকল্প। ছুটির সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ ও সেবা গ্রহণকারীরা।

KOICA-এর অর্থায়নে এবং Save the Children-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত “Strengthening the Maternal and Neonatal Health System in Rangpur, Bangladesh” কর্মসূচির আওতায় রংপুর জেলার ২৩টি এবং লালমনিরহাট জেলার ১৭টিসহ মোট ৪০টি ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে এ সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২৫ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত ঈদের ছুটিকালীন সময়ে গর্ভবতী মা, প্রসূতি মা ও নবজাতকের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ANC, PNC, নিরাপদ প্রসবসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান অব্যাহত থাকবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করে এই রোস্টার ডিউটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে সেবা প্রদান করছেন।

স্থানীয় সেবা গ্রহণকারীরা জানান, ঈদের ছুটিতে সাধারণত অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা সীমিত থাকে। তবে জননী প্রকল্পের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকায় গর্ভবতী মা ও নবজাতকের চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়া সহজ হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

প্রকল্প সমন্বয়কারী জানান, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, “রংপুর বিভাগে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” বিশেষ করে জননী প্রকল্পের মিডওয়াইফ, আয়া এবং নাইট গার্ডরা ঈদের ছুটির মধ্যেও নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এফডাব্লিউভি, আয়া এবং নৈশ প্রহরীরাও সমন্বিতভাবে রোস্টার ডিউটি পালন করছেন।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং জননী প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নবজাতকের জন্ম গ্রহণ কার্যক্রমও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

রংপুরের ডেপুটি ডিরেক্টর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যেও মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের কার্যক্রম স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

লালমনিরহাটের ডেপুটি ডিরেক্টর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মন্তব্য করেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ছুটির সময়েও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জননী প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা মা ও নবজাতকের নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

ঈদের আনন্দের মধ্যেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও মা ও নবজাতকের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


More News Of This Category