কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাধীন ঐতিহ্যবাহী গোলেরহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরের ঈদ জামাতকে ঘিরে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে ঈদগাহ মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে নান্দনিক সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সব ধরণের পদক্ষেপ সম্পন্ন করা হয়েছিল।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী প্রতিনিধি মোঃ আবু সাঈদ ইসলামের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহ মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিতে সজ্জিত সব বয়সী মানুষের আগমনে সকালের আলো ফোটার পর থেকেই পুরো ঈদগাহ প্রাঙ্গণ এক স্বর্গীয় ও আনন্দময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
পবিত্র ঈদুল আযহার এই বিশেষ জামাত সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সমাজসেবকদের উদ্যোগে বেশ কিছু প্রশংসনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠ প্রাঙ্গণেই পর্যাপ্ত ওযুর ব্যবস্থা, সহজে যাতায়াতের জন্য পথ নির্দেশনা এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দলও নিরলসভাবে কাজ করেছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও গোলেরহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এলাকার সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল এই প্রাঙ্গণ। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
আয়োজক কমিটির দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে নামাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এ বছর গোলেরহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাত হাজারেরও বেশি মুসল্লি একই সাথে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন। পরিশেষে দেশের মানুষের কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ঈদের এই মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।