কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাধীন এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে সামাজিক সংগঠন ফি-সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে সংগঠনটি। এই মানবিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে বুধবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আলেম-উলামাদের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংগঠনটির এমন মানবিক ও দ্বীনি কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনে মানবকল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ ফকরুল ইসলাম, মোঃ শাহ আলম ব্যাপারী, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ আব্দুল রাজ্জাক এবং মোঃ আপেল মাহমুদ। এছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিলন এবং সাংবাদিক আবু সাঈদ ইসলাম। মানবিক এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গোলেরহাট ফাজিল বিএ মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মুহাঃ হানিফ উদ্দিন। তিনি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, সমাজে দ্বীনি শিক্ষার বিস্তার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হচ্ছে মানবতার প্রকৃত শিক্ষা এবং ইসলামের মূল বাণী। তিনি বর্তমান সময়ের সামাজিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ফি-সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলো যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে আগত অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তারাও ফি-সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশনের সার্বিক সাফল্য ও উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। তারা আগামী দিনেও এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণসহ সব ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বক্তারা মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে মানবসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত করা সম্ভব হবে এবং সমাজে কোনো মানুষ অনাহারে বা কষ্টে থাকবে না। মানবিক ও দ্বীনি চেতনায় উদ্বুদ্ধ এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয় অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে। সবশেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত সবাই এলাকার মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনায় শামিল হন।