পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের নয় দিন পর অপহৃত হওয়া এক নববধূকে প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শেরপুর সদর উপজেলা থেকে ওই নববধূকে উদ্ধার করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের পোড়ালবাড়ি এলাকার মোঃ আরিফ হোসেনের মেয়ে মোছা. আশা আক্তারের (১৭) বিয়ে হয় চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ এলাকার শহীদ ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। নববধূ আশা আক্তার বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেবীগঞ্জ কলেজের ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
বিয়ের মাত্র নয় দিন পর, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে, তিনি বাবার বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে নববধূর বাবা মোঃ আরিফ হোসেন অপহরণের অভিযোগে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক রানা। তিনি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে অনুসন্ধান শুরু করেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২৯ অক্টোবর সকালে, শেরপুর সদর উপজেলার মোঃ তারা মিয়ার ছেলে রিপন মিয়ার (২৩) বাড়ি থেকে ওই নববধূকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অভিযানে শেরপুর সদর থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়।
দেবীগঞ্জ থানার এসআই ফারুক রানা বলেন, ওসি মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে শেরপুর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, গৃহবধূকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ পুলিশের এ দ্রুত পদক্ষেপ ও তৎপরতার প্রশংসা করেছে। তাঁদের মতে, এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।