পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘ ৪০ বছরের এক নিবিড় বন্ধনের অবসান হলো এক রাজকীয় ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে। উত্তর দর্জিপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সালামকে তাঁর দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শেষে শনিবার দুপুরে এক রাজকীয় সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ফুলের সাজে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি আর বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে প্রিয় ইমামকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তাঁর নিজ বাড়িতে।
বিদায়ের এই দিনটি শুরু হয়েছিল ভিন্নভাবে। মাওলানা আব্দুস সালামকে একটি সুসজ্জিত প্রাইভেট কারে করে শেষবারের মতো মসজিদে নিয়ে আসা হলে স্থানীয় শিশুরা তাঁকে ফুল ছিটিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এরপর মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী খতিব নিজেই। ৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ আলেমের সম্মানে স্থানীয়দের ভালোবাসা ছিল উপচে পড়া। দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামের সেবা করার স্বীকৃতিস্বরূপ মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ এক লক্ষ টাকা ও নানা উপহার সামগ্রী।
যোহরের নামাজ শেষে মাওলানা আব্দুস সালাম যখন মুসল্লিদের নিয়ে শেষ মোনাজাত করেন, তখন পুরো মসজিদ জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রিয় খতিবের বিদায়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ৪০ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে বার্ধক্যের কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে গ্রামবাসী তাঁর এই দীর্ঘ সেবা ও ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিদায় বেলা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাওলানা আব্দুস সালাম বলেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকলে আপনারা ক্ষমা করবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুজ্জোহা নিয়াজিদ জানান, খতিব সাহেব দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে মসজিদের খেদমত করেছেন। তাঁর এই অবদানকে যথাযথ সম্মান জানাতেই এই রাজকীয় আয়োজন। তাঁরা চান সমাজের প্রতিটি ইমাম ও খতিব যেন তাঁদের কর্মজীবন শেষে এমন সম্মানের সহিত বিদায় নিতে পারেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নুরুল আলা নূর কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, শিশু স্বর্গের পরিচালক কবির আহমেদ আকন্দ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দীনসহ শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ।