আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কৃষকের দোরগোড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু হচ্ছে কৃষক তথ্য সংগ্রহ ও সার কার্ড প্রদানের এক নতুন কার্যক্রম। মূলত সার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯০টি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজটি সম্পন্ন করবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানিয়েছেন যে কৃষক পর্যায়ে জমির সঠিক পরিমাণ এবং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতেই মূলত এই উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হবে প্রতিটি সার কার্ড।
এই সময়োপযোগী কার্যক্রমটি সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সকল কৃষকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। কৃষকদের নিজেদের জমির কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। মূলত কৃষকের প্রকৃত জমির পরিমাণ, আবাদযোগ্য জমির পরিমাপ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিটি সার কার্ড চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা হবে।

কৃষি খাতের সাথে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সার বিতরণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসামঞ্জস্যের কথা উঠে আসছিল। সাধারণ কৃষকের প্রকৃত চাহিদা, সরকারি সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ে প্রাপ্তির মধ্যে অনেক সময়ই বড় ব্যবধান লক্ষ করা যেত। কখনো কখনো প্রান্তিক কৃষকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাননি, আবার কোথাও কোথাও মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনৈতিক হস্তক্ষেপের খবরও পাওয়া গেছে। এমন একটি জটিল বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তথ্যভিত্তিক সার কার্ড চালু করার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ হতে পারে। এর ফলে যেমন প্রকৃত কৃষককে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তেমনি তাদের জমি অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ সার সরবরাহ করাও অনেক সহজ হয়ে উঠবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না এই বিষয়ে স্পষ্ট করে আরও জানিয়েছেন যে আগামী দিনগুলোতে নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্ট থেকে সার কার্ড দেখানো ছাড়া আর কোনো প্রকার সার বিতরণ করা হবে না। তাই প্রকৃত কৃষকদের প্রতি এখন থেকেই সচেতন থাকার এবং নিজেদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সার কার্ড তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি যেন নিরবচ্ছিন্ন এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে উপজেলা কৃষি প্রশাসন।
অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রকাশ করেছেন যে সার কার্ড তৈরির এই মহতী উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সময় যেন কোনো কৃষক তার রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে অতিরিক্ত সুবিধা না পান বা কোনোভাবে বঞ্চনার শিকার না হন। একই সাথে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় প্রকৃত কৃষকের জমির তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা এবং তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই সার কার্ড কেবল সাধারণ একটি কার্ড নয়, এটি প্রতিটি কৃষকের সরকারি ন্যায্য মূল্যের সার পাওয়ার এক মূল সনদ হতে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদেরও নিজেদের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং নির্ধারিত নিয়মে সময়মতো সার কার্ড সংগ্রহের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।
ডিমলা উপজেলার সাধারণ কৃষকরা আশা প্রকাশ করছেন যে নতুন এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সার বিতরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যের চিরতরে অবসান ঘটবে এবং প্রকৃত কৃষক তার আবাদী জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ সার নিশ্চিন্তে পাবেন। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যদি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে সার ব্যবস্থাপনায় একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিতামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839